অনলাইন ডেস্ক : বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যৌনাচারের শিকার হওয়া মহিলাদের ঘনিষ্ঠ কেউই এই অপকর্মের সঙ্গে লিপ্ত। উধারবন্দে এবার প্রকাশ্যে এসেছে এমন এক ঘটনার কথা। স্বয়ং জন্মদাতা বাবার যৌনাচারের শিকার হল এক নাবালিকা।ওই নাবালিকার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে নরপশু বাবাকে।
ধৃত ওই নরপশু বাবা পূর্ব উধারবন্দ এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে বছর ১৭র নাবালিকা মেয়ে যে অভিযোগ এনেছে তা শিহরণ সৃষ্টিকারী। নাবালিকা মেয়ে বর্তমানে উধারবন্দ ছেড়ে অন্য এলাকার বাসিন্দা। তার বয়ান অনুযায়ী,২০২২ সালে উধারবন্দে বাবার সঙ্গে বাড়িতে থাকার সময় সে যৌনাচারের শিকার হয়।সে সময় বাবা তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।এতে আপত্তি জানালে বাবা নানাভাবে তাকে ভয় দেখায়। এভাবে কিছুদিন চলার পর বাবা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। এদিকে বাবা চলে যাওয়ার কিছুদিন পর মেয়ে বুঝতে পারে সে অন্তস্বত্বা।ব্যাপারটা বুঝতে পারলেও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তার পক্ষে কিছু করার ছিল না।তবে গর্ভের মেয়াদ যখন সাত মাস হয় তখন সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় বাধ্য হয়ে সবকিছু জানায় পিসিকে।তখন পিসি টেলিফোনে যোগাযোগ করেন নাবালিকার বাবার সঙ্গে। এতে বাবা পরামর্শ দেয়
মেয়েকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে।চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নাবালিকাকে তখন রাখা হয় অন্যত্র তার এক বিবাহিত বোনের বাড়িতে। ওই বোনের বাড়িতে থাকতে থাকতেই সে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।এরপর কন্যা সন্তানকে বোনের কাছে রেখে পিসির সহায়তায় সে এক সংস্থায় কাজে যোগ দেয়। তবে কর্মস্থলে খুব একটা সুবিধা না হওয়ায় নাবালিকা তখন বাধ্য হয়ে টেলিফোনে যোগাযোগ করে বাবার সঙ্গে। এই অবস্থায় বাবা অন্য এক আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে নাবালিকাকে ওই আত্মীয়র বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে থাকতে নাবালিকা জানতে পারে তার বাবা অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেছে। বাবার ঠিকানা জেনে সে সেখানে যায়।কিন্তু সেখানে তার ঠাঁই হয়নি। এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে ঘুরতে তার ঠাঁই হয় এক হোমে। ওই হোমে থাকা অবস্থায়ই সে বাবার বিরুদ্ধে থানায় দায়ের করে এজাহার। নাবালিকা এজাহার দায়ের করেছিল অন্য এক থানায়।ওই থানা থেকে মামলা স্থানান্তরিত হয় উধারবন্দ থানায়।তবে উদারবন্দ থানা পুলিশ কিছুদিন ধরে খোঁজখবর চালালেও নরপশু বাবার খোঁজ পাচ্ছিল না।কারণ সে বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। শেষপর্যন্ত সোমবার রাতে তার নাগাল পাওয়া যায়।গ্রেফতার করা হয় তাকে।






