অনলাইন ডেস্ক : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ধলাইয়ের রাজনীতিতে জোর জল্পনা টিকিট বঞ্চিত হয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের ঘোষণা দেওয়া বিধায়ক নীহাররঞ্জন দাস শেষ পর্যন্ত কি নির্বাচনী ময়দানে থাকবেন, নাকি সরে দাঁড়াবেন? এ প্রশ্নেই এখন সরগরম রাজনৈতিক মহল।
ভারতীয় জনতা পার্টি ধলাই আসনে প্রার্থী করেছে অমিয় কান্তি দাসকে। টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ নীহাররঞ্জন দাস সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সামনে ঘোষণা করেন, তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং ২৩ মার্চ মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথাও জানান। এরপর থেকেই এলাকায় শুরু হয় জোর রাজনৈতিক চর্চা।
এই প্রেক্ষাপটে শনিবার তাঁর পানিভরা এলাকার বাসভবনে পৌঁছান রাজ্যের মন্ত্রী জয়ন্ত মল্লা বড়ুয়া, বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৌশিক রায় এবং বিজেপির অসম প্রদেশ সহ-প্রভারী সুনীল শর্মা। সেখানে প্রায় একান্ত বৈঠকে তাঁরা নীহাররঞ্জন দাসের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। সূত্রের খবর, বৈঠকের সময় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ফোনে বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেন।বৈঠক শেষে নীহাররঞ্জন দাস জানান, দলের পক্ষ থেকে তাঁকে নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে তিনি তাৎক্ষণিক কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত অবস্থান জানাবেন বলে জানিয়েছেন । এদিকে, রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে যে, তিনি হয়তো নির্দল প্রার্থী হিসেবে আর লড়বেন না। যদিও এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি বিধায়ক।
উল্লেখ্য, সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য শিলচরের সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর শূন্য হওয়া ধলাই আসনে উপনির্বাচনে প্রায় ৯ হাজারের বেশি ভোটে জয়লাভ করে বিধায়ক হন নীহাররঞ্জন দাস। স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি এলাকায় জনসংযোগ বৃদ্ধি ও উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁর জয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁকে নির্বাচনী লড়াই থেকে বিরত রাখতে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন ললিপপ হিসেবে আগামী লোকসভা নির্বাচনে তপশিলি সংরক্ষিত শিলচর লোকসভা আসনে নীহার রঞ্জন দাস কে টিকেট দেওয়া হবে সেই টুপ দেওয়া হয়েছে। আর বিধায়ক সেইটুপ গিলে নির্দল হিসেবে নির্বাচনে লড়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। তবে দলীয় উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে একদিনের সময় সীমা চেয়ে কি সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি, তা নিয়ে জোর জোর চর্চা চলছে।




