অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনার ঘর থেকে গ্রেপ্তার সাইবার অপরাধীর দল। বরপেটা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপরাধ শাখা সমীরণ বৈশ্যর নেতৃত্বে বরপেটা রোড পুলিশ থানার ওসি শ্যামল জ্যোতি শইকিয়ার সহযোগে চলা এক বিশেষ অভিযানে বরপেটা রোডের আজাদ নগর থেকে ৮জন কুখ্যাত সাইবার অপরাধীকে করায়ত্ত করতে সক্ষম হয়।বরপেটা রোডের আজাদ নগরের একটি দোতলা বিল্ডিংয়ের দুটো কোঠা ভাড়ায় নিয়ে সেখানে বসে সমগ্র কাণ্ড সংঘটিত করে আসছিলো, উক্ত অভিযানে পুলিশ ধৃত ৮ অপরাধীর কাছ থেকে বহু আপত্তিজনক সামগ্রী উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনা সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন যে এটি আসলে পুলিশের এক বৃহৎ সফলতা, তারা সেখানে বসে বসে শুধু অসম নয় অসমের বাইরের বিভিন্ন রাজ্যের সাধারণ মানুষ থেকে সাইবার অপরাধের মাধ্যমের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আসছিলো এবং আজাদ নগরের এই ঘরটি ছিলো তাদের ঘাটি।সংবাদ সম্মেলন সম্বোধন করে ঘটনা সম্পর্কে বরপেটা জেলার পুলিশ সুপার পুস্কীন জৈন সংবাদ মাধ্যমের সামনে বিস্তারিত ভাবে প্রকাশ করেন।পুলিশ সুপার পুস্কীন জৈন উক্ত ঘটনা সম্পর্কে বলেন যে এই সাইবার অপরাধীর দলটি কলকাতা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বরপেটা রোড থেকে সমগ্র অপরাধ জনিত কাজগুলো সংঘটিত করে আসছিলো দীর্ঘদিন ধরে।ধৃত আট অপরাধী ক্রমে বরপেটা রোড কাটাঝার পাথার গ্রামের জুবাহার আলীর পুত্র শাহিনুর ইসলাম বয়স ৩২ বছর, বরপেটা রোড ৯ নং ওয়ার্ড শক্তিনগর নিবাসী মহমদ নাজিমুদ্দিনের পুত্র মহম্মদ সোহেব বয়স ২০ বছর, বরপেটা রোড চেঙ্গুলার সবুর উদ্দিনের পুত্র রাহুল আমিন বয়স ১৯ বছর, বরপেটা রোড খৈরবাড়ি নিবাসী সেলিম উদ্দিন আহমেদের পুত্র সাহির উদ্দিন আহমেদ বয়স ২১ বছর, বরপেটা রোড ৯ নং ওয়ার্ড শক্তিনগর নিবাসী বিল্লাল হুসেইনের পুত্র শাকিল হুসেইন বয়স ১৯ বছর, বরপেটা রোড চেঙ্গুলার নিবাসী মূল উদ্দিনের পুত্র শরিফুল ইসলাম বয়স ১৯ বছর, বরপেটা রোড কাটাঝর গ্রামের আক্কাস আলীর পুত্র মকিবুর হুসেইন বয়স ১৯ বছর, এবং বরপেটা রোড চেঙ্গুলার নিবাসী মঞ্জিল হকের পুত্র মজিদুল ইসলাম। এইক্ষেত্রে পুলিশ সুপার বলেন যে বয়সের দিক থেকে পরিপক্ব না হলেও তারা অপরাধ জনিত কাজের ক্ষেত্রে খুব পরিপক্ব।অপরাধীরা পুলিশের সামনে উক্ত অপরাধ কীভাবে সংঘটিত করে আসছিলো সেই বিষয়ে সুন্দর ভাবে ডেমো দেখায়। তারা নিজেদেরকে বাজাজ ফাইন্যান্স এর মত প্রতিষ্ঠিত লোন কোম্পানির এজেন্ট বলে পরিচয় দিয়ে মানুষকে কল করে বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল ফোন হ্যাক করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিষয়ে সবিশেষ গ্যত হয়ে একাউন্ট থেকে টাকা আত্মসাৎ করে আসছিলো, তারা দিনে শত শত মানুষকে কল করে এধরনের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আসছিলো।
পুলিশ সুপার আরো বলেন যে এমনো হতে পারে তাদের এই দলে আরো বহু মানুষ জড়িত থাকতে পারে এই বিষয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।এদিকে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর যে বাড়িতে বসে তারা এই কুকান্ড চালিয়ে যাচ্ছিলো সে বাড়ির মালিক কাজী লুতফর রহমানকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসাবাদ করায় তিনি সংবাদ মাধ্যমের সামনে কোনো কথা না বলে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। তিনি শুধু বলেন যে এই বিষয়ে তিনি কোনো কিছুই জানেনা।
ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উত্থাপন হয়েছে লুতফর রহমানের বিরুদ্ধে কেনোনা উনার বাড়িতে বসে ৮ টি ছেলে বেশ কয়েকটি কম্পিউটার নিয়ে মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য কিছু আপত্তিকর সামগ্রী যেগুলো সাধারণত সাইবার অপরাধ সংঘটিত করার জন্য প্রয়োজন হয় সেগুলো দিয়ে প্রায় ৪ মাস ধরে এই ধরনের ঘটনা সংঘটিত করে আসছিলো, এইক্ষেত্রে তিনি কোনো কিছু নাজানাটা স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারেনি বরপেটা রোডের সাধারণ মানুষ।
ইতিমধ্যে ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ জোরদার তদন্ত আরম্ভ করার পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা ৮ অপরাধীকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে এখন পরবর্তী সময়ে এই ঘটনার সঙ্গে আরো কে কে জড়িত রয়েছে সে বিষয়ে জানা যাবে।
পুলিশের এই বিশেষ সফলতার জন্য বরপেটা এবং বরপেটা রোড পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।উল্ল্যেখযোগ্য যে কাজী লুতফর রহমান নামের লোকটি অর্থাৎ যে ঘরে বসে তারা এধরণের অপরাধ জনিত ঘটনা সংঘটিত করে আসছিলো সে ঘরের মালিক একজন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনা।





