অনলাইন ডেস্ক : চিকিৎসক সেজে শিলচর কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গিয়ে ধরা পড়লো যুবক। মীর হোসেন আহমদ বড় ভূঁইয়া (২৩) নামে এই যুবক কাটিগড়া থানা এলাকার গণিরগ্রাম দ্বিতীয় খন্ডের বাসিন্দা।
মেডিকেলের এক সূত্র জানিয়েছেন, মীর হোসেন গত রবি ও সোমবার রাতে মেডিক্যালের স্ত্রীরোগ বিভাগ এবং মাদার এন্ড চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালে গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে চিকিৎসক সেজে ঘোরাঘুরি করে। তখন তাকে দেখে সন্দেহ হয়।এরপর মঙ্গলবার তাকে পাকড়াও করে সমঝে দেওয়া হয় পুলিশের কাছে। সূত্রটি আরও জানান, রাতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে যারা থাকেন তাদের বেশির ভাগই হয় পিজি স্তরের পড়ুয়া চিকিৎসক বা ইন্টার্ন। সঙ্গে থাকেন সিস্টাররা। প্রথম দুদিন মীরকে দেখে সন্দেহ হলেও তারা ঠিক কি করনীয়, তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। রাতে যারা ডিউটিতে থাকেন তাদের মনে হয় হয়তো নতুন চিকিৎসক বদলি হয়ে এসেছেন অন্য কোনো মেডিক্যাল থেকে। তবে জালিয়াত বলে মঙ্গলবার নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে পাকড়াও করে সামঝে দেওয়া হয় পুলিশের কাছে।
সিনিয়র পুলিশ সুপার নূমল মাহাতো জানিয়েছেন, এদিন মেডিকেলের স্ত্রীরোগ বিভাগের “ওপিডি”(বহি্র্বিভাগ) থেকে মীরকে পাকড়াও করা হয়। পাকড়াও করার পর জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে জানা গেছে, মীর যে স্টেথোস্কোপ নিয়ে চিকিৎসক সেজেছিল, তা সে ক্রয় করেছে অনলাইনে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক উত্তীর্ণ। গনিরগ্রাম হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল থেকে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হয়েছে সে।
তার বাবা সম্পর্কে জানা গেছে তিনি ভূবাসন বিভাগের একজন পাটোয়ারী । মীর হঠাৎ করে কোন উদ্দেশ্যে চিকিৎসক সেজে মেডিকেলে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে পুলিশ বর্তমানে তা খতিয়ে দেখছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, এর পেছনে তার কোনও অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। মেডিকেলে এত বিভাগ থাকতে তার স্ত্রীরোগ বিভাগ এবং মাদার এন্ড চাইল্ড কেয়ার হসপিটালকে বেছে নেওয়ার দরুন এমন সন্দেহ জেগে উঠেছে। জাল চিকিৎসক মীরের এভাবে ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে বিশেষত মহিলা রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাওয়াকে ঘিরে বর্তমানে মেডিকেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রসঙ্গত অতি সম্প্রতি মেডিকেলে ডায়ালিসিস সেন্টারে ভাংচুর চালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এরপর এবার এই কান্ড। যদিও মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের দাবি সতর্কতার দরুনই মীরকে পাকড়াও করা সম্ভব হয়েছে। বেশিদিন তার পক্ষে চিকিৎসক সেজে রোগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।





