অনলাইন ডেস্ক : এবছর মাধ্যমিকে রাজ্যের সবকটি জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন স্থান অধিকার করেছিল কাছাড় জেলা। উচ্চ মাধ্যমিকেও অব্যাহত রইলো এই ধারা।
অসম স্টেট স্কুল এডুকেশন বোর্ড পরিচালিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে মঙ্গলবার। ফলাফল অনুযায়ী রাজ্যের ৩৫ টি শৈক্ষিক জেলার মধ্যে কলা শাখায় সাফল্যের নিরিখে কাছাড়ের অবস্থান একেবারে সর্বনিম্ন স্থানে। সর্বনিম্ন স্থানে নেমে যাওয়ার মতো “উল্লেখযোগ্য ” কিছু না ঘটলেও জেলাওয়াড়ি তালিকায় বিজ্ঞান এবং বাণিজ্য শাখায়ও জেলার স্থান হয়েছে শেষের দিকেই।
কলা শাখায় এবার জেলায় পরীক্ষায় বসে ছিল ১২,৫৪১জন পরীক্ষার্থী, এর মধ্যে পাশ করেছে ৭৫০৩জন। পাশের হার ৫৯’৮৩ শতাংশ । যে ৭৫০৩জন পাস করেছে এর মধ্যে প্রথম বিভাগ ১৮০১,দ্বিতীয় বিভাগ ৩২৪৩এবং তৃতীয় বিভাগে পাশ করেছে ২৪৫৯ জন। কলা শাখায় ৯৪’২৯ শতাংশ পাশের হার নিয়ে জেলাওয়াড়ি তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে বাকসা জেলা। সেই তুলনায় কাছাড়ের পাশের হার মাত্র ৫৯’৮৩ শতাংশ। আর ৩৫ জেলার মধ্যে গড়ে পাস করেছে ৭৯’৫৪শতাংশ। এসব পরিসংখ্যানই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রে বর্তমানে কাছাড়ের চালচিত্র কেমন।
কলা শাখার পরীক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন স্থান অর্জনের “গৌরব” কুড়িয়ে আনার পাশাপাশি বিজ্ঞান এবং বাণিজ্য শাখায়ও জেলার অবস্থান উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। বিজ্ঞান শাখায়ও যেখানে রাজ্যে গড় পাশের হার ৮৯’৭৯শতাংশ সেখানে এজেলায় পাশ করেছে ৮৮’১৪শতাংশ পরীক্ষার্থী। পাশের এই হার নিয়ে ৩৫জেলার মধ্যে কাছাড়ের অবস্থান ২৪ নম্বরে। বিজ্ঞান শাখায় এজেলা থেকে পরীক্ষায় বসেছিল
মোট ২৪২০জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে পাশ করেছে ২১৩৩জন, প্রথম বিভাগ -১২৫৬, দ্বিতীয় বিভাগ ৭৮০এবং তৃতীয় বিভাগে পাশ করেছে ৯৭ জন।
বাণিজ্য শাখায় জেলা ওয়াড়ি তালিকায় কাছাড়ের স্থান হয়েছে ২৬ নম্বরে।রাজ্যে যেখানে গড় হিসেবে এই শাখায় পাস করেছে ৮১’১৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী,সেখানে কাছাড়ে পাশের হার ৭৭’৪৮শতাংশ। এবার জেলায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১১৪১,এর মধ্যে পাশ করেছে ৮৮৪জন। প্রথম বিভাগ -৪১২,দ্বিতীয় বিভাগ -৩৭০এবং তৃতীয় বিভাগে পাশ করেছে ১০২ জন।
কলা শাখায় সর্বনিম্ন স্থান অধিকারের হিসেব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে জেলার মোট ১৮২ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭টিতেই অর্ধেকের বেশি সংখ্যক পরীক্ষার্থী পাশ করতে পারেনি। পাশের হার ৫০শতাংশ থেকেও কম।
এমন ফলাফলকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই জেলার শৈক্ষিক মহলে সৃষ্টি হয়েছে হতাশার। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকে ফলাফলের নিরিখে এক সময় রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মধ্যে আগসারিতে থাকা
এই জেলা কেন ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে, এ নিয়ে জিজ্ঞেস করলে শিলচর নার্সিং উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কৃষ্ণেন্দু রায় বলেন, ব্যাপারটা খুবই উদ্বেগের। শুধু কাছাড় নয়, গোটা বরাক উপত্যকায় গত কয়েক বছর ধরেই ফলাফল ক্রমেই নিম্নগামী হচ্ছে। এর পিছনে খামতি তো অবশ্যই রয়েছে। এ নিয়ে গভীর পর্যালোচনা করে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা জরুরি। শৈক্ষিক ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনেদের মতামত নিয়ে এরজন্য উদ্যোগী হতে হবে শিক্ষাবিভাগের কর্মকর্তাদের।





