অনলাইন ডেস্ক : দক্ষিণ ধলাই কাঁপিয়ে দেওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রাজনগর কুলিছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নবনির্বাচিত সভাপতি ইমরান হোসেন বড়ভূঁইয়া-কে খুনের রহস্য অবশেষে ফাঁস হয়েছে। পুলিশি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, ইমরানকে তাঁর স্ত্রী রিনা বেগম বড়ভূঁইয়া এবং স্ত্রীর প্রেমিক বিজু লস্কর মিলে পরিকল্পিতভাবে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করেছে। ইতিমধ্যেই দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটক রয়েছেন ইমরানের শ্বশুর বাবুল উদ্দিন লস্কর, শ্যালক সাদিক আহমেদ লস্কর, ও বড় শ্যালিকা।গত ১০ আগস্ট ভোরে নিজের বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ইমরানকে। প্রথমে স্ত্রী রিনা দাবি করেছিলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবার ও গ্রামবাসী প্রথমদিকে তা মেনে নিলেও ইমরানের স্ত্রীর পরকীয়ার গুঞ্জন ক্রমেই সন্দেহ বাড়ায়। পোস্টমর্টেম না হওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। ঘটনার মোড় ঘুরে যায় ইমরানের ভাই নাগিব বড়ভূঁইয়া এবং তার দুই বন্ধু রাহুল আহমেদ লস্কর ও বচন লস্করের তৎপরতায়। বচনের মোবাইলে স্ত্রী রিনা ও বিজুর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিং ধরা পড়ে, যেখানে রিনা বিজুকে আশ্বস্ত করে লিখেছিলেন— ইতিমধ্যে কবরের মৃতদেহ পৌঁছে গিয়েছে, এখন আর কোনো টেনশন নেই।” এই তথ্য হাতে পেয়ে তারা সরাসরি পুলিশকে জানান। জেরায় বিজু খুনের কথা স্বীকার করে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দক্ষিণ ধলাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজিত জনতা ইমরানের বাড়িতে অবস্থান করা ইমরানের শ্বশুর-শ্যালক-শ্যালিকাকে আটকে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ বিশাল বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করলেও জনতার আক্রোশ থেকে রক্ষা পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। জনতা ওই রাতে শ্বশুর ও শ্যালকের গাড়ি ভাঙচুর করে।পরদিন ভোরে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ ধলাই থানার দিকে মিছিল নিয়ে রওনা দেয়। অফিসার ইনচার্জ কুলেন্দ্র হুজুরি ভাগা বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্ষুব্ধ জনতা ভাগা-শেরখান সড়কের মোড়ে ৩০৬ নম্বর শিলচর-আইজল জাতীয় সড়ক অবরোধ করে “দোষীদের ফাঁসি চাই” স্লোগানে ফেটে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ চলার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় আন্দোলনকারীরা। বর্তমানে দক্ষিণ ধলাইজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।






