অনলাইন ডেস্ক : এমবিবিএস ! ডাক্তার ! ধুর, ধুর, বলে খেকিয়ে উঠলেন প্রৌঢ়।এরপর নাগাড়ে বলে গেলেন,-” যখন বাজারে ভিডিওর আবির্ভাব ঘটেছিল, তখনও কাজ করতো ভিডিও অপারেটর হিসেবে। এর পাশাপাশি ঘুরে ঘুরে দোকানে ফেরি করত চাপাতা। ও আবার এমবিবিএস ডিগ্রিধারী ডাক্তার হলো কখন ?
শিলচরের শিবসুন্দরী নারী শিক্ষাশ্রমে কর্মরত অবস্থায় ভুয়ো চিকিৎসক পুলক মালাকার ধরা পড়ার পর বর্তমানে বদরপুরের পশ্চিম জংলা কালিবাড়ি রোড এলাকায় যেন বিষ্ময়ের সীমা নেই। পুলক মূলত ওই এলাকার বাসিন্দা। পুলক ডাক্তার কিনা এনিয়ে জিজ্ঞেস করতেই প্রতিবেশী প্রৌঢ় খেকিয়ে উঠে নাগাড়ে তার এই পূর্ব ইতিহাস তুলে ধরে ডেকে আনেন আশপাশের আরও কয়েকজনকে। কেউ ক্ষোভ ঝেড়ে, কেউবা হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ে একইভাবে পুলকের পূর্ব ইতিহাস তুলে ধরে বলেন-” এমবিবিএস তো দূর, ও মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হয়েছে কিনা এনিয়েও আমাদের সন্দেহ রয়েছে।”
এমন একজন লোক যেভাবে এতদিন ধরে শিলচর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত স্বনামধন্য এক সেবামূলক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ চালিয়ে গেলেন এযেন পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্যের মত ব্যাপার। কাছাড়ের সিনিয়র পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট নূমল মাহাতো জানিয়েছেন, পুলক একসময় চিকিৎসালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী বা সহায়ক হিসেবে কাজ করতেন। এরপর হঠাৎ করে ওডিষ্যার কটকের উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শ্রীরামচন্দ্র ভঞ্জ মেডিকেল কলেজের জাল এমবিবিএস সার্টিফিকেট নিয়ে চিকিৎসক হিসেবে আবির্ভূত হয়ে শুরু করেন রোগীদের চিকিৎসা। ২০১৬ সাল থেকে তিনি চালিয়ে আসছিলেন এই কারবার।
এস এস পি মাহাতো জানান, পুলক মালাকারকে পাকড়াও করার পর তিনি রামচন্দ্র ভঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস কোর্স করেছেন বলে যে সার্টিফিকেট পেশ করেছেন তা সম্পূর্ণ জাল। এই সার্টিফিকেট এক বিশেষ চক্রের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেছিলেন পুলক। এসএসপি জানান, এই জাল সার্টিফিকেট চক্রের জাল ছড়িয়ে রয়েছে বরাক উপত্যকায়ও। পুলকের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে গিয়ে এই চক্র সম্পর্কেও খোঁজ খবর চালানো হচ্ছে।
এদিকে পুলকের মত একজন মুন্নাভাই কিভাবে এতদিন ধরে শিব সুন্দরী নারী শিক্ষাশ্রমের মত হাসপাতালে এতদিন ধরে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে রোগীদের চিকিৎসা করে গেলেন,এর সূত্র ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
এনিয়ে শিব সুন্দরী নারী শিক্ষাশ্রমের কর্মকর্তা পুলক দাস(ইনিও পুলক)কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, পুলক মালাকার তাদের হাসপাতালে মোটেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেননি। তিনি অন্যান্য চিকিৎসকদের সঙ্গে সহকারী হিসেবে থাকতেন। তবে
পুলক মালাকার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তার এমবিবিএস এবং চিকিৎসক হিসেবে যে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট রয়েছে তা পেশ করেছিলেন। এসব সার্টিফিকেট আসল না জাল, তা তাদের পক্ষে খতিয়ে দেখা সম্ভব নয়।
পুলক মালাকারের মতো মুন্নাভাইদের এভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেজে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অবশ্য বিক্ষিপ্ত কোনও ব্যাপার নয়। এঅঞ্চলের কিছু কিছু বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেকেই এসব মুন্নাভাইদের হাতে পড়েছেন।শিলচর তারাপুর এলাকার বাসিন্দা এক বৃদ্ধ জানান, বছর কয়েক আগে তিনি চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে। গিয়ে দেখেন বেশ কয়েক বছর আগে যে যুবক তার গাড়ি চালিয়েছিল, সেই স্টেথোস্কোপ নিয়ে ঘোরাঘুরি করছে চিকিৎসক সেজে। তাই যথাযথ তদন্ত হলে, এমন কতজন মুন্না ভাই যে ধরা পড়বে তার ঠিকানা নেই। এসএসপি মাহাতো জানিয়েছেন, পুলক মালাকারের পর আরও কয়েকজন সন্দেহভাজন মুন্নাভাইদের দিকে তাদের নজর রয়েছে।






