অনলাইন ডেস্ক : ধলাই থানা এলাকার রাজনগর-খুলিছড়া জিপির সভাপতি ইমরান হোসেন বড়ভূঁইয়ার মৃত্যুর ঘটনাটা আপাতদৃষ্টিতে যাই হোক না কেন, পুলিশ নিশ্চিত তাকে খুন করা হয়েছে। এর সূত্র ধরে এপর্যন্ত ইমরানের পত্নী রিনা বেগম বড় ভূঁইয়া , শশুর, শাশুড়ি এবং শ্যালিকা সহ রিনার প্রেমিক বলে কথিত গাড়ির চালক বসিরুজ্জামান লস্কর ওরফে বিজুকে গ্রেফতার করা হলেও আচ পাওয়া যাচ্ছে, পুলিশের থাবা পড়তে পারে আরও কয়েকজনের কাঁধে।
পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর প্রথম দফায় পুলিশ রিনা ও বিজুকে আদালতের অনুমতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়। আদালতের নির্দেশে অন্য তিনজনকে প্রেরণ করা হয় হাজতে। জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শেষে বুধবার রিনা এবং বিজুকে ফের আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের নির্দেশে এদিন তাদেরও প্রেরণ করা হয়েছে জেল হাজতে । তবে এর আগে মঙ্গলবার পুলিশ ঘটনার পুনরনির্মাণের জন্য রিনাকে নিয়ে ইমরানের বাড়িতে যায়।
পুলিশের এক সূত্র জানান, পুনর্নির্মাণ পর্বে রান্না করার সময় কিভাবে ইমরানের খাওয়ার জন্য তৈরি করা মাসকলাই একপাতা ঘুমের ট্যাবলেট মেশানো হয়েছিল, কোন বাসনে কিভাবে ইমরানকে এই মাসকলাই খেতে দেওয়া হয়েছিল সব অভিনয় করে দেখিয়েছেন রিনা।সূত্রটি এও দাবি করেন, পুরো ঘটনাটা অভিনয় করে দেখানোর পাশাপাশি এর আগে জিজ্ঞাসাবাদে প্রেমিক বিজুর সঙ্গে মিলে পরিকল্পনা করে ইমরানকে হত্যার কথাও স্বীকার করেছেন। আর মঙ্গলবার ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর রিনা ঘুমের ট্যাবলেটের খালি পাতাও বের করে দিয়েছেন।
এসবের পাশাপাশি বর্তমানে ঘটনার পেছনে রিনা এবং বিজুর প্রেমকাহিনীর পাশাপাশি তৃতীয় শক্তির হাত থাকার সম্ভাবনা নিয়েও শুরু হয়েছে চর্চা। পুলিশও এমন সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিচ্ছে না। পুলিশের সূত্রটির কথায়, রাজনৈতিক বা অন্য কোনও স্বার্থে রিনা এবং বিজুর প্রেমের সম্পর্ককে হাতিয়ার করে ইমরানকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবার পরিকল্পনায় তৃতীয়পক্ষ বা পরিবারের বাইরের কেউ দুজনকে ইন্ধন জুগিয়ে থাকতে পারেন বলেই মনে হচ্ছে। তাই তদন্তে বর্তমানে সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে ইমরানের সন্তানদের যাতে কোনওভাবেই রিনার সংস্পর্শে থাকতে দেওয়া না হয় এনিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ধলাই সমজেলার কমিশনার এবং কাছাড়ের সিনিয়র পুলিশ সুপারের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে।মঙ্গলবার এলাকার দুইশতাধিক লোকের স্বাক্ষরিত স্মারকপত্র সম জেলার কমিশনার এবং সিনিয়র পুলিশ সুপারের কাছে তুলে দেওয়া হয়। স্মারকপত্রে আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে সন্তানরা রিনার হেফাজতে গেলে তাদের জীবন নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া সেরে ফাস্ট ট্রাক কোর্টে বিচারের ব্যবস্থা করার জন্যও আর্জি জানানো হয়েছে।






