অনলাইন ডেস্ক : ডিমা হাসাও জেলার লাইসং পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তথা সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) নবজিৎ দাসের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। তদন্তকারীরা দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত বলে অভিযোগ ওঠা গাড়িটির সঙ্গে একটি মাদক পাচার সংক্রান্ত মামলার সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন। শুক্রবার রাতে লাইসং এলাকায় নাকা তল্লাশি চালানোর সময় একটি গাড়ি নবজিৎ দাসকে ধাক্কা দেয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই গাড়িটি এবং এর মালিকানা নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় জড়িত বলে চিহ্নিত গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর এএস-০২-এজে-৪৩৩৫ গাড়িটি নঁগাও জেলার জুরিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুসের নামে রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এখন তদন্তকারীরা গাড়িটির পূর্ববর্তী ব্যবহার, মালিকানা এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন।
বিশেষ করে, গাড়িটির সঙ্গে আগে কোনও মাদক পাচার বা মাদক সংক্রান্ত অপরাধের মামলা যুক্ত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, দুর্ঘটনার সঙ্গে মাদক পাচার চক্রের কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নবজিৎ দাস লাইসং পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নাকা চেকিংয়ের সময় কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁর মৃত্যুতে পুলিশ মহল এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ঘটনায় ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, গাড়িটির ব্যবহার এবং সম্ভাব্য মাদক-যোগ সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা গাড়িটির মালিকানা, দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে কারা ছিলেন, গাড়িটি কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছিল এবং এর আগে কোনও অপরাধমূলক ঘটনায় গাড়িটি ব্যবহৃত হয়েছিল কি না—এই বিষয়গুলি যাচাই করছেন। তবে মাদক পাচার মামলার সঙ্গে দুর্ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক এখনও তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। পুলিশের তদন্ত এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে নবজিৎ দাসের মৃত্যুর পেছনে থাকা সম্পূর্ণ ঘটনাক্রম এবং গাড়িটির সম্ভাব্য অপরাধমূলক যোগসূত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।




