অনলাইন ডেস্ক : বরাক নদীর তীরে দাঁড়িয়ে সেলফি উঠতে গিয়ে তলিয়ে গেল স্কুল পড়ুয়া। শিলচর নর্সিং হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের একাদশ শ্রেণীর পড়ুয়া অঙ্কিত চক্রবর্তীর এভাবে নদীতে তলিয়ে যাওয়াকে প্রশ্ন উঠছে স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে। অঙ্কিতের বাড়ি শহরের ক্যাপিটাল মোড়ের বানিপাড়ায়। বাবার নাম অমর চক্রবর্তী।
শুক্রবার দুপুরে মালুগ্রাম স্টিমারঘাট রোডে রহমানপট্টির বিপরীত দিকে ভাষা শহীদ বেদীর পেছনের অংশে নদীতে তলিয়ে যায় অঙ্কিত। জানা গেছে অমিত এদিন যথারীতি স্কুলে গিয়েছিল। কিন্তু
প্রথম ক্লাসে যোগ দেওয়ার পরই কোনওভাবে বেরিয়ে যায়। তার সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে যায় আরও দুজন শ্রীশান্ত সিনহা ও দেবরাজ সিনহা।শ্রীশান্ত তারাপুর রায়গড় এবং দেবরাজ মাছুঘাটের বাসিন্দা। শ্রীশান্ত ও দেবরাজের বয়ান অনুযায়ী,তারা নদী তীরে গিয়েছিল। তীরের ঢালু অংশে সেলফি উঠাতে গিয়ে
অঙ্কিত পা পিছলে জলে পড়ে তলিয়ে যায়। সে সময় নদীতে কাছেই ছিলেন এক নৌকা চালক।ওই নৌকা চালকের পক্ষেও কিছু করা সম্ভব হয়নি। অঙ্কিত তলিয়ে যাওয়ার পর তারা কিংকর্তব্যবিমুঢ হয়ে পড়লে,নৌকা চালক পুলিশকে জানানোর কথা বলেন। এরপর খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডেকে আনেন এসডিআরএফ কে। এফডিআরএফ জওয়ানরা নদীতে নেমে বেশ কিছুক্ষণ তল্লাশি চালালেও অঙ্কিতের সন্ধান মেলেনি। এদিকে ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে নার্সিং স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে। স্কুলে যাওয়ার পর কিভাবে এরা বাইরে বেরিয়ে গেল,এনিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
স্কুলে বর্তমানে অধ্যক্ষ নেই, অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন জেলার স্কুল সমূহের পরিদর্শক। স্কুলের শিক্ষিকা কঙ্কনা দাসকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, অঙ্কিত, শ্রীশান্ত ও দেবরাজ তিনজনই
কলা বিভাগের পড়ুয়া। এদিন তাদের প্রথম ক্লাস ছিল ইংরাজির।সেই ক্লাসে যথারীতি উপস্থিত ছিল তিনজন ।এরপরের ক্লাস ছিল রাষ্ট্রবিজ্ঞানের,তখন দেখা যায় তিনজন নেই। এরপর দুপুরের দিকে খবর পাওয়া যায় ঘটনার। স্কুল চলাকালীন তিনজনের এভাবে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে,কঙ্কনা দাস বলেন
বর্তমানে স্কুলে আধার কার্ডের কাজ চলছে। প্রতিদিন ওই আধার সেন্টারে বাইরে থেকে প্রচুর লোক আসেন। স্কুল শুরুর পর বড় গেট বন্ধ রাখা হলেও, আধার সেন্টারে লোকেদের আসা যাওয়ার জন্য ছোট গেট খুলে রাখতে হয়। এছাড়া স্কুলে বর্তমানে চলছে নির্মাণ কাজ,যার দরুন সীমানার কিছু কিছু অংশও খোলা রয়েছে।ছোট গেট বা সীমানার কিছু কিছু অংশ খোলা থাকার সুযোগ নিয়ে অঙ্কিতরা বেরিয়ে গেছে বাইরে। তাঁর কথায়,ছোট গেট এবং সীমানার কিছু কিছু অংশ খোলা থাকার দরুণ এত পড়ুয়াকে সবসময় স্কুলের গণ্ডির মধ্যে রাখা সম্ভব হয় না। নজর এড়িয়ে এসব খোলা অংশ দিয়ে মাঝে মাঝে বাইরে বেরিয়ে যায় কেউ কেউ ।



