অনলাইন ডেস্ক : সাইবার অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত কাছাড়ের আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এবার গ্রেফতার করা হয়েছে শিলচর রংপুর করাতিগ্রামের অনুপ দে(৩০),দাস কলোনির নবজ্যোতি রায় (২৮)এবং সোনাই দক্ষিণ মোহনপুরের আলী আহমদ লস্কর (৫৩)কে।এর আগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে কচুদরম দ্বিতীয় খন্ডের বাসিন্দা শাহরুখ খান বড়ভূঁইয়া (৩০)ও বাহার উদ্দিন বড়ভূঁইয়া (৩৫)কে। সব মিলিয়ে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচ।
জানা গেছে অন্ধ্রপ্রদেশ,তামিলনাডু, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান সহ অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা সাইবার অপরাধী চক্রের সঙ্গে ধৃতদের সংযোগ রয়েছে। অপরাধী চক্রে এদের ভূমিকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া টাকা ট্রান্সফারের জন্য নিজেদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দেওয়া। সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে সেসব একাউন্টকে বলা হয় “মিউল একাউন্ট”। ভারবাহী পশুর মত শুধু টাকা ট্রান্সফারের জন্যই ব্যবহার করা হয় এদের। এভাবে নিজেদের একাউন্ট ব্যবহার করতে দেওয়ার বিনিময়ে এরা কমিশন বা ভাড়া হিসেবে পেয়ে থাকে কিছু অর্থ।
অপরাধী চক্রের আসল মাথারা নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখতে এভাবে কমিশন বা ভাড়ার বিনিময়ে ব্যবহার করে থাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লোকেদের একাউন্ট। খবর অনুযায়ী, এপর্যন্ত ৫জন ধরা পড়লেও এজেলার আরও অনেকের অ্যাকাউন্ট এভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে এ নিয়ে তদন্ত চলছে। খবর অনুযায়ী,যে ৫ জন ধরা পড়েছে এদের মধ্যে শাহরুখ খান বড়ভূইয়ার ভূমিকা শুধু একাউন্ট ভাড়া দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অপরাধী চক্রের মাথারা এঅঞ্চলে যাদের একাউন্ট ভাড়ার বিনিময়ে ব্যবহার করে থাকে তাদের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে তাকে সে। কচুদরম বাজার এলাকায় তার কম্পিউটারের দোকান রয়েছে। এই সূত্রে অনেকের ব্যাংকের কাজকর্মও করে দিতো সে। আর এসব কাজ করতে গিয়েই অন্যান্যদের টোপ দিয়ে তাদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুযোগ করে দিত সাইবার অপরাধী চক্রের মাথাদের। শাহরুখের পাশাপাশি সোনাই এলাকার ফাহিম নামে অন্য এক যুবকও চক্রে সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে থাকে বলে খবর রয়েছে। যদিও পুলিশ অভিযান শুরু করার পরই সে গা-ঢাকা দিয়েছে। বর্তমানে তার খোঁজ চলছে।
জানা গেছে, শাহরুখ সহ ধৃত ৫ জনকে বিশেষ আদালতে পেশ করার জন্য শীঘ্রই গুয়াহাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে । বর্তমানে পুলিশি তদন্ত প্রক্রিয়া যেভাবে চলছে এতে জেলার আরও অনেকের জালে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




