অনলাইন ডেস্ক : শুধু শিলচর শহর এলাকায় আইপিএল -এর একেকটি ম্যাচকে ঘিরে কত টাকার জুয়া খেলা হয়? জুয়ার কারবারীদের হিসেব অনুযায়ী টাকার অঙ্কটা ১০ কোটির কম নয় কোনও অবস্থায়ই। এই বিশাল জুয়ার বাজারে কতজন যে শামিল তার হিসেব বের করা মুশকিল। রবিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে ৫ জুয়াড়িকে।
গ্রেফতার করা হয়েছে শহরের মধুরবন্দ কান্দিগ্রাম এলাকার সমীর আজিজ (৩৩) এবং কাঁঠাল রোডের আফতার হোসেন লস্কর (৩৩),জাহির আহমদ লস্কর (৩২),রজত কুমার সিং (৩১) ও সেবুল হোসেন লস্কর (৩১)কে। এর মধ্যে রজত কুমার সিং এক বাগানে চা বাগানে এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ দমন) রজত কুমার পাল জানিয়েছেন,শহরে আইপিএল জুয়া নিয়ে কিছুদিন ধরে বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছিল।তাই তদন্তের জন্য গঠন করা হয় পুলিশের বিশেষ “টিম”। এই ” টিম”-এর সদস্য পুলিশ কর্মীরা প্রথম পাকড়াও করেন সমীর আজিজকে। এরপর তার সূত্রে গ্রেফতার করা হয় অন্য চারজনকে। এদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে নগদ ৮০,২৩০টাকা, ৭টা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, ১টি নোটবুক ও ৪টি হিসেব লিখা কাগজ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান,ধৃতদের সঙ্গে অন্য কারা জড়িত রয়েছে এবং দেশের অন্যান্য স্থানের জুয়াড়িদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে কিনা বর্তমানে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের সোমবার আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাদের প্রেরণ করা হয় জেল হাজতে।
এদিকে পুলিশের অন্য এক সূত্রে জানা গেছে, সমীরদের সূত্রে তাদের জুয়ার কারবারের বেশ কয়েকজন লগ্নিকারীর নাম বেরিয়ে এসেছে।
এর মধ্যে রয়েছে কিছু বড় নামও।এই লগ্নিকারীদের শীঘ্রই তলব করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের সূত্রটি। জুয়ার কারবারের সঙ্গে যুক্ত এক সূত্র জানান,ম্যাচের টস থেকে ধরে
টার্গেট, ওভার প্রতি রান সহ বহু ক্ষেত্রেই অর্থ লগ্নি করা হয়। রবিবার রাতে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও লখ্নৌ সুপার জায়েন্টস- এর মধ্যে ম্যাচ সুপার ওভার পর্যন্ত গড়ানোয় জুয়াড়িদের বাজার ছিল চনমনে। ওই সূত্রটির কথায়,শহরে কারবার এমন ভাবে ছড়িয়ে রয়েছে এবং এর সঙ্গে এমন মাপের লোকেরা জড়িত রয়েছেন যা সাধারনভাবে কল্পনাও করা যায় না। এই বড় মাথারা সবসময়ই থেকে যাবেন নাগালের বাইরে।





