অনলাইন ডেস্ক : না, আর মোটেও দেরি নয়। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বহু প্রতীক্ষিত ভৈরবী-সাইরাং রেলপথ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবং একই মাসে মিজোরামের রাজধানী আইজলের অদূরে সাইরাং পর্যন্ত চালু হতে যাচ্ছে রেল চলাচল। শুক্রবার একথা নিশ্চিত করেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার রেলের সূত্রে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে উদ্বোধনের কথা জানানো হলেও সফররত এই অঞ্চলের মিডিয়া টিমকে শুক্রবার সাতসকালে আইজলের এক হোটেলের লাউঞ্জে বসে প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখ্য জন সংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকুমার শর্মা বলেন,’সেপ্টেম্বরেই এই নয়া রেলপথের সূচনা হচ্ছে।’ তবে ঠিক কত তারিখ উদ্বোধন হবে, তার নিশ্চয়তা দেন নি। জানান, রেল এ রুটটি চালুর জন্য এক পায়ে খাড়া।
২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর মালিগাঁও রেলওয়ে স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রিমোটে শিলান্যাস করেন লুসাই পাহাড়ের কোলে রেলের এই নয়নাভিরাম প্রকল্পের। দীর্ঘ ৫১.৩৮ কিমি এই রেল প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০২৫ সালে। মাঝখানে অর্থাৎ, ২০২৩-এর সেপ্টেম্বরে সাইরাং নদীর ওপর নির্মীয়মাণ সেতুর রেলিং ভেঙে কর্মরত ২৬ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা এই প্রকল্পের কাজ কিছুটা থিতিয়ে দিলেও রেলের মেধাসম্পন্ন প্রকৌশলী ও কঠোর পরিশ্রমী শ্রমিকদের অদম্য কর্মতৎপরতার ফলস্বরূপ অবশেষে এই জটিল ও দুর্গম পাহাড়ের বুকে নির্নাণকাজ এমনকী, সিআরএস পরিদর্শনও সম্পন্ন হয়। সেতু ও দীর্ঘ রেলপথের জন্য ছাড়পত্র জুটে। এরপরেও প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শনিবার আইজল পৌঁছচ্ছেন রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান সতীশ কুমার। শুক্রবার রাত ন’টায় মালিগাঁও থেকে এনএফ রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার চেতনকুমার শ্রীবাস্তব, ওপেনলাইন চেতনকুমার শ্রীবাস্তব ও জেনারেল ম্যানেজার নির্মাণ অরুণকুমার চৌধুরী ছাড়াও পদস্থ আধিকারিকরা রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। শনিবার তাঁদের পরিদর্শনের উদ্যেশ্য আসলে উদ্বোধনীরই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সরকারের অনুমোদন লাভ করে এই প্রকল্প। মিজোরামের ভৈরবী থেকে সাইরাং পর্যন্ত রেলপথে রয়েছে পাঁচটি স্টেশন। তাছাড়া কুরুং নদীর ওপর নির্মিত ভারতের দ্বিতীয় উচ্চতম সাইরাং (নং-১৯৬) রেলসেতু সহ তৈরি করা হয়েছে ৫৫ টি প্রধান বড় ও ৮৫টি ছোট সেতু। রয়েছে ৪৮ সুড়ঙ্গ, ৫টি রোড ওভারব্রিজ (আরওবি), ৬টি রোড আন্ডার ব্রিজ (আরইউবি)। এরমধ্যে মিজোরাম তো বটেই, উত্তর-পূর্ব ভারতে ঐতিহাসিক এবং গৌরব করার মতো কুরুং নদীর ওপর সাইরাং রেলসেতুর আরও বৈশিষ্ট্য হল, এটি দিল্লির কুতুবমিনার থেকেও সেতুটি ৪২ মিটার উঁচু। সেতুর উচ্চতা ১১৪ মিটার। এই রুটের মোট ৪৮টি সুড়ঙ্গ নিয়ে ১২,৮৫৩ মিটার পথজুড়ে থাকছে সুড়ঙ্গ।
এদিন রেলের আমন্ত্রণে উত্তরপূর্বের বিভিন্ন মুদ্রণ ও বৈদ্যুতিন মাধ্যেমের সাংবাদিকদের নিয়ে রুটটির সর্বশেষ অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে নিয়ে যান মুখ্য জন সংযোগ আধিকারিক শর্মা। স্পেশাল ভিস্টাডোম কোচেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই রুট চালু হলে গুয়াহাটি ও আইজলের দূরত্ব অনেকটাই কমে যাবে। তাছাড়া শিলচর থেকে সাইরাং যাতায়াতে সময় লাগবে মাত্র তিনঘণ্টা। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের কাজে নানাধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও এবার এই পথ ধরে দেশের অন্যান্য স্থানের সঙ্গে মিজোরামের যোগাযোগ স্থাপনে রেল পুরোদস্তুর তৈরি। ফলে, দূুরগামী ও ও স্থানীয় যাত্রী এবং পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে মাইলফলক তৈরি করতে যাচ্ছে ভারতীয় রেল। সব ঠিকঠাক থাকলে শিলচর-ভৈরবী প্যাসেঞ্জার ট্রেন সেপ্টেম্বরেই সাইরাং পর্যন্ত সম্প্রসারণ করছে রেল। এদিন সাংবাদিকদের নিয়ে ভৈরবী-সাইরাং রেলপথে শর্মার সহযাত্রী হিসেবে ছিলেন এনএফের আরও একজন সংযোগ আধিকারিক নীলাঞ্জন দেব।
( আইজল থেকে আমাদের সংবাদদাতা মৃত্যুঞ্জয় দাস )






