অনলাইন ডেস্ক : চেহারা দেখলে চেনা যায় না। সেদিনের তারুণ্যে উজ্জ্বল, টগবগে যুবক সায়ন দাস জটিল অসুখের জেরে প্রায় বৃদ্ধ। এই কয়েকটা বছর আগেও শ্রীভূমি জেলার বাইশ গজ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন বছর ছত্রিশের যুবক সায়ন। অনূর্ধ্ব উনিশ জেলা দলের হয়ে খেলেছেন। এমনকি রাজ্য দলের ট্রায়ালেও সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু আজ তিনি গুরুতর অসুস্থ। তাঁর দু’টি কিডনিই বিকল হয়ে গিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে কিডনি সংস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিধবা মা ও ছোট ভাই নিলয়কে নিয়ে একেবারেই নিম্ন মধ্যবিত্ত সংসার সায়নের। বাবা নিশিথবরণ দাস রাজ্য সরকারের চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার কয়েক বছর পর মারা যান। সংসার টানতে ব্যাট-প্যাড তুলে রেখে কাজে নেমে পড়ে ছিলেন সায়ন। একটি ডেলিভারি সংস্থায় সামান্য পারিশ্রমিকে কাজ করতেন। কিন্তু গতবছর হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। প্রথমে সাধারণ অসুখ বলে মনে হলেও হায়দরাবাদে নিয়ে গিয়ে চেক আপ করার পর ধরা পড়ে, তাঁর দু’টি কিডনিই বিকল হয়ে গিয়েছে। পরবর্তী দেড়-দু’বছরের মধ্যে কিডনি সংস্থাপনের পরামর্শ দেন হায়দরাবাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। শ্রীভূমি শহরের ব্রজেন্দ্র রোডের তিলকচাঁদ লেনে সায়নদের বাড়ি। এরপরেই তিন সদস্যের পরিবারে শুরু হয় অ-সম লড়াই। কিছুদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়ার জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজে তিনি ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে বাড়ি নিয়ে আসা হয়েছে। নিয়মিত ডায়ালেসিস করাতে হচ্ছে। কলকাতার একটি নামি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। ডোনার-ও পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু খরচ প্রচুর। অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার খরচ যোগাড় করতেই এখন চোখে সর্ষেফুল দেখছেন সায়নের পরিবার। ইতিমধ্যে শ্রীভূমি শহরের কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে। অর্থ সাহায্যও করেছে। তাঁর পরিচিতরা সামাজিক মাধ্যমে ক্রাউড ফান্ডিং শুরু করেছেন। দাদার চিকিৎসা করাতে গিয়ে একটি বেসরকারি সংস্থার চাকরিও ছাড়তে হয়েছে ছোটভাই নিলয়কে। কারণ, চিকিৎসার জন্য এত ঘন ঘন ছুটি মেলেনা। আক্ষরিক অর্থেই সায়নকে সুস্থ করে তুলতে এক যুদ্ধে নেমেছেন তাঁরা। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁদের শ্রীভূমির বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন শিলচরের প্লেয়ার্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ( পিডব্ল্যুএফ) এক প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সায়নদের হাতে ফাউন্ডেশনের পক্ষে তাঁর চিকিৎসার জন্য ২৫ হাজার টাকার অনুদান তুলে দেওয়া হয়। এই সঙ্কট সময়ে তাঁরা যে একা নন, সেই বার্তা দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছিল ফাউন্ডেশন। তাঁকে সুস্থ করে তোলার ব্যাপারে পিডব্ল্যুএফ সবধরনের সহযোগিতা করবে বলেও ভরসা দেন তাঁরা। একইসঙ্গে উপত্যকার সর্বশ্রেণীর মানুষ ও সংগঠনকে প্রাক্তন এই ক্রিকেটারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায় পিডব্ল্যুএফ। এদিন ফাউন্ডেশনের পক্ষে সায়ন ও তাঁর মা-ভাই-এর সঙ্গে কথা বলেন পার্থপ্রতিম ঘোষ, সত্যব্রত রায়, বিজেন্দ্রপ্রসাদ সিং, চন্দন শর্মা, উত্তম চৌধুরী ও প্রণবানন্দ দাশ।



