অনলাইন ডেস্ক : ধলাই থানা এলাকার চান্নিঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের চান্নিঘাট তেমাথা এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে চলমান বিবাদের জেরে দুই সহোদর ভাইয়ের পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এবং তিনজন মহিলার আঘাত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফয়জুর রহমান লস্কর ও আলতাফ হোসেন লস্কর নামে দুই ভাইয়ের মধ্যে একটি খণ্ড জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিবাদ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে থানায় এফআইআর দায়ের এবং বেশ কয়েক দফা গ্রাম্য সালিশ সভাও অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
সোমবার রাতে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ রয়েছে, ফয়জুর রহমান পক্ষ তার শ্বশুরবাড়ির প্রায় ২০-২৫ জন লোক নিয়ে এসে ছোট ভাই আলতাফ হোসেনের দেওয়া বাঁশের বেড়া তুলে ফেলেন। আলতাফ পক্ষের লোকজন রাতের অন্ধকারে কী ঘটছে তা দেখতে গেলে ফয়জুর রহমান বাহিনী তাদের ওপর অতর্কিতে আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণে আলতাফ হোসেন পক্ষের চারজন পুরুষ ও তিনজন মহিলাসহ মোট সাতজন আহত হন। আহতদের মধ্যে রিনা বেগম লস্কর (৬০), বাহারুল ইসলাম লস্কর (২৯), সাহারুল ইসলাম লস্কর (৩৮), শামীম আহমেদ লস্কর (৩০), সাজিনা বেগম লস্কর (৩৫) এবং তাইবুর রহমান লস্করকে শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। রিনা বেগম লস্কর, সাজিনা বেগম লস্কর এবং আরও একজন মহিলার আঘাত গুরুতর বলে জানা গেছে।অন্যদিকে, ফয়জুর রহমান পক্ষেরও দুইজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে, তবে তাদের নাম জানা যায়নি।উল্লেখ্য, রবিবারও একই জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটেছিল এবং সে বিষয়ে লায়লাপুর পুলিশ পেট্রোল পোস্টে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, রবিবারের ঘটনায় পুলিশ উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরদিনই বিবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ধলাই পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।




