অনলাইন ডেস্ক : এ শহরে এখন রাস্তা খুঁজে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পুরনো থেকে নিউ শিলচর, চৌদিকে শুধু গর্ত, কাদা আর জলমগ্ন বিপদসংকেত। কোথাও রাস্তা ভেঙে পুকুর, কোথাও কঙ্কালসার চেহারা, প্রতিটি মোড় যেন অব্যবস্থার জীবন্ত প্রমাণ। বছরের পর বছর অভিযোগ, প্রতিবাদ, এমনকি ‘লাউয়ের আত্মহত্যা’র মতো তীব্র প্রতীকী আন্দোলনও টলাতে পারেনি দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্বিকারতা। ফলে প্রশ্নটা এখন আর শুধু দুর্ভোগের নয়, শাসনব্যবস্থার অস্তিত্ব নিয়েও। আসলেই কি এই শহরের কোনও অভিভাবক আছে? শহরের এ প্রান্ত ও প্রান্ত, পুরনো মহল্লা হোক বা নতুন বিস্তার, সবখানেই একই ছবি। দাস কলোনি, পঞ্চায়েত রোড, বিবেকানন্দ রোড, অম্বিকাপট্টি, সেন্ট্রাল রোড, কাঁঠাল রোড, মোটকথা শহর এবং শহরতলীর প্রায় প্রতিটি সড়কই এখন গর্ত, কাদা আর জলের দখলে। প্রশ্ন উঠছে, এ কি শহর, না কি অবহেলার দীর্ঘস্থায়ী প্রদর্শনী? নিউ ভকতপুরের চেংকুড়ি রোড সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে থাকা রাস্তা বর্ষা নামতেই কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির জলে ঢেকে যাচ্ছে গর্ত, আর সেই অদৃশ্য ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। কাঁঠাল রোডেও একই অবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে কলমে প্রকল্পের ঘোষণা হলেও বাস্তবে কাজের চিহ্ন নেই। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ছোটখাটো পুকুরে পরিণত হচ্ছে। এক বাসিন্দার কথায়, প্রতিবাদ হয়েছে বহুবার, আবেদন গেছে অসংখ্যবার, কিন্তু পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বরং প্রতিবার বর্ষার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ভোগ যেন আরও বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, এই নীরবতা কার স্বার্থে? তারাপুর শিববাড়ি সড়কের নির্মাণকাজ চললেও বাস্তবে পরিস্থিতি আরও বিপর্যস্ত। রাস্তার এমন অবস্থা যে, সাধারণ যানবাহন তো দূরের কথা, জরুরি পরিষেবার অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত ঢুকতে পারছে না এলাকায়। অসুস্থ ও প্রবীণদের জন্য পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে ভয়াবহ। প্রতিদিন বাইক, স্কুটি, অটোর দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের ঘটনা।শিলচরর হাইলাকান্দি রোডের (পড়ুন মেডিক্যাল রোড) মেহেরপুর থেকে মেডিক্যাল পয়েন্ট অংশে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি যেন আজ দুর্দশার আরেক নাম হয়ে উঠেছে। রাস্তায় বিশাল বিশাল গর্ত, যানজটের ফাঁদে বন্দি সাধারণ মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছে যানবাহন, আটকে পড়ছেন অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী। সবচেয়ে উদ্বেগজনক, প্রায়ই এই যানজটের মধ্যে আটকে পড়ছে অ্যাম্বুলেন্স, যা সরাসরি মানুষের জীবনসংকট ডেকে আনছে। উল্লেখ্য, গত বছর এই একই সমস্যার প্রতিবাদে মেহেরপুরে দেখা গিয়েছিল এক অভিনব দৃশ্য, ‘লাউয়ের আত্মহত্যা’। বেহাল রাস্তায় গাছের ডাল ও আবর্জনার স্তূপের পাশে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল একটি লাউ। সেই প্রতীকী প্রতিবাদে ফুটে উঠেছিল সাধারণ মানুষের চাপা ক্ষোভ, অসহায়তা ও ক্ষোভের নিঃশব্দ বিস্ফোরণ। সেই ছবি ভাইরাল হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে। কিন্তু বাস্তব চিত্র? এক বছর পরও সেই রাস্তা মেরামত তো দূর, বরং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এরও আগে শহরবাসী প্রশ্ন তুলেছিলেন, রাস্তা তুমি কার? আজ সেই প্রশ্ন আরও তীব্র, আরও অস্বস্তিকর। কারণ, উত্তর মেলেনি এখনও। বরং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী সড়ক, হাসপাতালমুখী পথ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার রাস্তা, সবই পরিণত হয়েছে বিপজ্জনক পথে।অভিযোগ উঠছে, পূর্ত বিভাগ থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চস্তর কিংবা জনপ্রতিনিধি, সবাই যেন দায় এড়িয়ে চলেছেন। মাঝেমধ্যে সংস্কারের নামে সাময়িক কাজ হলেও তা টেকেনি বছরের বেশি। ফলে আবারও পুরনো চেহারায় ফিরেছে রাস্তাঘাট। প্রতিদিনের এই দুর্ভোগে অতিষ্ঠ শিলচরবাসী এখন আর শুধু অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। তাদের প্রশ্ন, আর কতদিন? কবে মিলবে স্থায়ী সমাধান? নাকি আরও তীব্র, আরও বিস্ফোরক প্রতিবাদের অপেক্ষায় প্রশাসন?




