অনলাইন ডেস্ক : গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করল স্বামীকে। ধৃত বীরু মিয়া (৩০)শিলচর শহর সংলগ্ন বেরেঙ্গা মোকাম মোড় এলাকার বাসিন্দা।
বীরু মিয়ার পত্নী রাবিয়া বেগম (২৮)-এর মৃত্যু ঘটে গত ২৮ এপ্রিল রাতে। তিনি ছিলেন সাত মাসের অন্ত:সত্ত্বা। বীরু মিয়া রাবিয়াকে অচেতন অবস্থায় শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
রাবিয়ার বাবার বাড়ি জিরিঘাট দিগলি এলাকায়। ঘটনা নিয়ে তার সম্পর্কিত ভাই শিলচর সদর থানায় বীরু মিয়াকে অভিযুক্ত করে এজাহার দায়ের করেছেন। বাবার বাড়ির লোকেরা জানিয়েছেন, বছর ছয়েক আগে বীরু মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় রাবিয়ার। তাদের দুই ছেলেও রয়েছে। বড় ছেলের বয়স প্রায় পাঁচ বছর, ছোট ছেলে তিন বছরের।
কিছুদিন ধরে বীরু মিয়া অন্য এক মহিলার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই খবর পেয়ে রাবিয়া আপত্তি জানানোয় তার উপর নির্যাতন শুরু করেন । এনিয়ে সামাজিকভাবে বিচারও হয়েছে। এসবের মাঝে মাস দুয়েক আগে তারা জানতে পারেন
বীরু মিয়া নাকি ওই মহিলাকে বিয়ে করে নিয়েছেন। বিয়ের পর থেকে রাবিয়ার উপর বীরু মিয়ার অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। গত ২৮ এপ্রিল রাতে বীরু মিয়া তাদের ফোন করে জানান, রাবিয়া খুবই অসুস্থ। এই খবর পেয়ে তারা দ্রুত শিলচরে ছুটে আসেন। বীরু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন, রাবিয়াকে মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।এরপর মেডিক্যালে পৌঁছে দেখেন রাবিয়া মৃত। সে সময় তারা রাবিয়ার গলায় রশি দিয়ে ফাঁস পরানো সহ শরীরের অন্যান্য স্থানেও আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এসব দেখে তাদের সন্দেহ হয়, বীরু মিয়া রাবিয়াকে খুন করেছেন। তাদের সন্দেহ জেগে ওঠার মধ্যেই বীরু মিয়া ময়নাতদন্ত বিনেই মৃতদহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপাচাপি শুরু করেন। এতে ঘটনাটা যে হত্যাকান্ড, এনিয়ে তাদের আর সন্দেহের অবকাশ থাকেনি। তাই তারা সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাপারটা জানান পুলিশকে। পুলিশ সেখান থেকেই পাকড়াও করে বীরু মিয়াকে।বীরু মিয়াকে গ্রেফতারের পর বুধবার পুলিশটা তাকে আদালতে পেশ করে।আদালতের অনুমতিতে তাকে দুদিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়ে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।
এদিকে বীরু মিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে রাবিয়া আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ফাঁসিতে ঝুলে পড়েছিলেন। ঝুলন্ত রাবিয়াকে দেখতে পাওয়ার পর তিনি ভেবেছিলেন দেহে প্রাণ রয়েছে। একথা ভেবে তাকে নামিয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
যদিও পুলিশের বক্তব্য, অভিযোগের স্বপক্ষে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়ার পরই বীরু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।





