অনলাইন ডেস্ক : নিজের চার বছরের কন্যাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক মহিলা, ঘটনাটি ঘটেছে শিবসাগর জেলার খোরাহাট গ্রান্ট চা বাগান এলাকায়।পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার সকালে বাড়ির ভিতরেই রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা খবর দেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার সময় বাড়িতে মা ও মেয়ে ছাড়া অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন না। গুরুতর আহত অবস্থায় মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনি এখন চিকিৎসাধীন। রবিবার এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় ডেমৌ থানার অন্তর্গত খোরাহাট গ্রান্ট চা বাগান এলাকায়। প্রথমে এলাকাবাসীরা মা এবং মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেন এবং তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ডেমৌ থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনকেই উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে চিকিৎসকেরা চার বছরের শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর জখম অবস্থায় তার মা কল্পনা কালন্দীকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ডিব্রুগড়ের অসম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তিনি বর্তমানে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন এবং এখনও জ্ঞান ফেরেনি বলে জানা গেছে। শিবসাগর জেলার পুলিশ সুপার পাপরি চেতিয়া জানান, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুকন্যার গলা কাটা হয়েছে। একই অস্ত্র দিয়ে মা নিজের গলার কাছেও আঘাত করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। নিহত শিশুর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য অসম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ কল্পনা কালন্দীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩ ধারায় খুনের মামলা গ্রহণ করেছে। যদিও তিনি এখনও অচেতন থাকায় জিজ্ঞাসাবাদ সম্ভব হয়নি। সুস্থ হওয়ার পরই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, কী কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা তাঁদের কাছেও স্পষ্ট নয়। কল্পনার স্বামী পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরিবারে কোনও ধরনের অশান্তি বা বিরোধ ছিল বলেও তিনি অস্বীকার করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, যেহেতু ঘটনাস্থলে অন্য কেউ উপস্থিত ছিল না, তাই পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং অভিযুক্তের জ্ঞান ফেরার পর জিজ্ঞাসাবাদ—সবকিছুকেই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগোনো হবে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একটি পরিবারে ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হলে এমন নির্মম পরিণতি সামনে আসে, সেটা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। তদন্তকারীরা বলছেন, মানসিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং ঘটনার পূর্বাপর সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




