অনলাইন ডেস্ক : শিলচরের জেলাশাসক কার্যালয়ের পাশে উন্নয়ন ভবনে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল দুই মহিলা আধিকারিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তাঁরা নথি পাস করার সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি করতেন। একাধিক অভিযোগ জমা পড়ার পর জেলাশাসক মৃদুল যাদব নবনিযুক্ত আইএএস (প্রবেশনারি) উনহালে আশিষ বিদ্যার্থীকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আশিষ সাধারণ মানুষ সেজে সার্কেল অফিসে লাইনে দাঁড়ান। এর আগে খাজনা দিতে আসা এক ব্যক্তির কাছ থেকে নির্ধারিত ৯৯০ টাকার বদলে প্রায় ১৪০০ টাকা দাবি করেন দুই আধিকারিক—কৃষ্ণা বর্মন ও মেহজাবিন। অতিরিক্ত টাকার কারণ জানতে চাইলে তাঁরা আদালতের খরচের অজুহাত দেন, কিন্তু কোনও রসিদ দেখাতে পারেননি। গোটা ঘটনাটি আশিষ মোবাইলে রেকর্ড করেন। যখন তিনি নিজে অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করেন, তখন ওই দুই আধিকারিক দুর্ব্যবহার শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায়, তবে ততক্ষণে প্রমাণ জোগাড় হয়ে গিয়েছিল।আশিষ জানান, বহু সাধারণ মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এসে এভাবেই প্রতারিত হচ্ছিলেন। টাকা না দিলে হুমকি ও অপমানের মুখে পড়তে হত তাঁদের। কয়েকজন আগে থেকেই অভিযোগ জানিয়েছিলেন এবং কিছু প্রমাণও দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবারের ঘটনার রিপোর্ট জেলাশাসকের কাছে জমা দেওয়া হলে, সঙ্গে সঙ্গে কৃষ্ণা বর্মন ও মেহজাবিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।আশিষ বলেন, “বাইরের লোকেরা অভিযোগ করলেও সব সময় তা আমাদের সামনে আসে না। অনেক কার্যালয়ে সিসিটিভি-র মতো পরিকাঠামো নেই। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু কর্মচারী সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেন। এই দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রিভেনশন অব করাপশন অ্যাক্ট-সহ বিভিন্ন আইনে অভিযোগ গৃহীত হয়েছে। তদন্ত চলছে। আশা করি এই ঘটনা অন্য আধিকারিকদের কাছে কঠোর বার্তা দেবে।”





