অনলাইন ডেস্ক : এই নাম নিয়ে চর্চা চলছিল আগে থেকেই। লটারিতে কাছাড়ের জেলা পরিষদ সভাপতি পদ “ওপেন” হওয়ার পর ব্যাপারটা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। এরপর বুধবার শিলচরে এক বৈঠকে বসে কঙ্কন নারায়ণ সিকদারের নামেই সিলমোহর মেরেছেন বিজেপির নেতৃত্ব। ডলু-বড়খলা জেলা পরিষদ সদস্য কঙ্কন নারায়নকে সভাপতি পদের জন্য বাছাই করার পাশাপাশি সহ-সভাপতি পদের জন্য প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে আইরংমারা -সোনাছড়া জেলা পরিষদ সদস্য ধর্মেন্দ্র তেওয়ারির নাম ।
নির্বাচনে জেলায় ২৫ টি জেলা পরিষদ আসনের মধ্যে ১৬টিতে জয়ী হওয়ায় বিজেপি যে বোর্ড গঠন করবে তা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তবে সভাপতি এবং সহ সভাপতি পদ সংরক্ষিত হবে কিনা এ নিয়ে সংশয় থাকায় দলীয় নেতৃত্ব এই দুই পদে বিজয়ী জেলা পরিষদ সদস্যদের মধ্যে কাদের বসানো হবে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। গত সোমবার গুয়াহাটিতে
পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগের কার্যালয়ে রাজ্যের অন্যান্য জেলার সঙ্গে কাছাড়েরও এই দুটি পদ নিয়ে লটারি হয়। লটারিতে দুটি পদই থেকে যায় “ওপেন” ক্যাটাগরিতে। এরপর বুধবার শিলচরে বিজেপি কার্যালয়ে এক বৈঠকে বসে দলীয় নেতৃত্ব সভাপতি পদে কঙ্কন নারায়ণের নাম চূড়ান্ত করেন। সহ-সভাপতি পদে ধর্মেন্দ্র তিওয়ারির নাম প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হলেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
জেলা পরিষদ গঠন হবে আগামী ৬ আগস্ট। তাই এর আগে নাম চৃড়ান্ত করার প্রক্রিয়া সেরে রাখতে এদিন বৈঠকে বসেন দলের কর্মকর্তারা।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত দুই মন্ত্রী কৌশিক রায় ও কৃষ্ণেন্দু পাল, তিন বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী, মিহির কান্তি সোম ও নীহার রঞ্জন দাস সহ দলের জেলা কমিটির সভাপতি রূপম সাহা, দুই সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ রায় ও গোপাল কান্তি রায় এবং নির্বাচিত দলীয় জেলা পরিষদ সদস্যরা। দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, কঙ্কন নারায়ণ শিকদার এবং ধর্মেন্দ্র তিওয়ারির নাম উঠলে কেউই কোনও আপত্তি জানাননি। তবে কঙ্কন নারায়ণ সিকদার নিয়ে দলীয় নেতৃত্ব স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছালেও ধর্মেন্দ্রকে নিয়ে তেমন কিছু হয়নি। দলীয় এক সূত্রের খবর অনুযায়ী, সহ-সভাপতি পদের জন্য ধর্মেন্দ্র নাম প্রাথমিকভাবে ভাবা হলেও দলীয় নেতৃত্বের একাংশ চাইছেন এই পদে চা জনগোষ্ঠীর কাউকে বসাতে। তাই শেষ মুহূর্তে ধর্মেন্দ্রর বদলে এই পদে অন্য কেউ আসীন হলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।
প্রসঙ্গত কঙ্কন নারায়ণ শিকদার দলে মন্ত্রী কৌশিক রায়ের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। সভাপতি পদ ওপেন হলে কঙ্কন নারায়ণই যে এই পদে আসীন হচ্ছেন, এ নিয়ে চর্চা ছিল আগে থেকেই। লটারিতে সভাপতি পদ ওপেন ঘোষিত হওয়ার পর ব্যাপারটা প্রায় নিশ্চিতই হয়ে যায়। তবে সহ-সভাপতি পদে কাকে বসানো হবে এ নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল। এদিন প্রাথমিকভাবে ধর্মেন্দ্রর নাম নিয়ে আলোচনা হলেও তাকে ঘিরে একটা প্রশ্নচিহ্ন রয়েই গেছে।
এদিন বৈঠকের পর জেলা সভাপতি রূপম সাহা বলেন, জেলা পরিষদ সদস্যরা দুই পদে কাদের বসানো হবে এই ব্যাপারটা ছেড়ে দিয়েছিলেন দলের উপর। এটুকু বললেও কাদের নাম বাছাই করা হয়েছে, তা তিনি মুখে আনেন নি। যদিও দলীয় বিভিন্ন সূত্রে কঙ্কন নারায়নের নাম চূড়ান্ত হওয়ার ব্যাপারটা রটে যায় মুখে মুখে ।





