অনলাইন ডেস্ক : ছাত্রভর্তি প্রক্রিয়ার নিয়ম নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠল শিলচরের জিসি কলেজ। শনিবার কলেজের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ল একাংশ ছাত্রছাত্রী। বিতর্কের কেন্দ্রে ‘স্পট অ্যাডমিশন’। অভিযোগ, মেধা নয়—ভর্তি নির্ভর করছে গুগল ফর্মে টোকেন পাওয়া-না-পাওয়ার উপর। কলেজ কর্তৃপক্ষের এই অনলাইন প্রক্রিয়াকে ‘অস্বচ্ছ’ ও ‘বঞ্চনামূলক’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে পড়ুয়ারা। এ দিন কলেজের মূল গেট বন্ধ করে অবস্থান নেয় ছাত্রছাত্রীরা। তালা পড়ে গেটে। চূড়ান্ত ব্যাহত হয় ভর্তি প্রক্রিয়া। ততক্ষণে খবর ছড়িয়ে পড়ে সবদিকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কলেজ চত্বরে পৌঁছয় পুলিশের একটি দল, সঙ্গে সিআরপিএফ। ছিলেন কাছাড় জেলা প্রশাসনের দুই ম্যাজিস্ট্রেট—বহ্নিকা চেতিয়া ও ফুলঙ্গ চরাই। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. অপ্রতিম নাগ, বিক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের প্রতিনিধি ও দুই ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক। ছাত্রছাত্রীর দাবি মেনে টোকেন পদ্ধতি বন্ধ করতে বাধ্য হন কলেজ কর্তৃপক্ষ। এই পদ্ধতিতে আপত্তি ওঠার আগে পর্যন্ত যাদের ভর্তি হয়েছে, সেগুলো বাতিল হবে না বলেও জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত এও হয়েছে যে, এখন থেকে টোকেন পাওয়া পড়ুয়াদের মধ্যেই ভর্তি হবে, তবে তা হবে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে। তবে ছাত্রদের একাংশের বক্তব্য, স্পট অ্যাডমিশন মানে লাইনে দাঁড়িয়ে যাঁরা আগে আসবেন, আগে ভর্তি হবেন। কিন্তু এখানে আগে টোকেন পেলেই সুবিধা—মেধা থাক বা না থাক। একাধিক পড়ুয়ার অভিযোগ, উচ্চ নম্বর সত্ত্বেও গুগল ফর্মে আবেদন করার পর তাঁদের টোকেন ইস্যু হতে দেরি হয়েছে। ফলে মেধার দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও তাঁরা ভর্তি হতে পারছেন না। বিপরীতে, কম নম্বর পাওয়া কেউ আগে টোকেন পেয়ে যাচ্ছেন, আর সেই টোকেনেই নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে তার আসন। এক পড়ুয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই উঠে এসেছে বিস্তর প্রশ্ন। তার দাবি, ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়েও অনলাইনে গুগল ফর্মে আবেদন করার পর এখনও টোকেন পাননি তিনি। অথচ তার থেকে কম নম্বর পাওয়া অন্য এক পড়ুয়া অনেক আগে টোকেন পেয়ে গিয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ভর্তি হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—’স্পট অ্যাডমিশন’ কি তবে কেবল নামেই স্পট?’
তাঁদের আরও অভিযোগ, বাইরের কলেজ থেকে আসা পড়ুয়াদের জন্য যোগ্যতা নির্ধারিত হয়েছে ৬০ শতাংশ, অথচ জিসি কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের জন্য মাত্র ৫০ শতাংশ। এই বৈষম্যের কোনও যুক্তি নেই বলেই মনে করছে ছাত্রসমাজ।

অধ্যক্ষ ড. নাগ জানিয়েছেন, যাঁরা ইতিমধ্যে টোকেন পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যেই মেধাক্রম অনুসারে ভর্তি হবে। পাশাপাশি, ভর্তি প্রক্রিয়া একদিন বাড়ানোর আর্জি জানানো হবে উচ্চশিক্ষা দফতরে। এই ঘটনায় কলেজে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আপাতত নিয়ন্ত্রণে এসেছে পরিস্থিতি। প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে, আগামী বছরও কি ভর্তি নিয়ে এমনই তালা পড়বে?





