অনলাইন ডেস্ক : ভারতীয় সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের রমজান উপলক্ষে আয়োজিত দাওয়াতে-ইফতার আয়োজনের অনুমতি বাতিল করে দিয়েছে। ছাত্রদের আবেদনকে প্রায় দশ দিন ধরে উপেক্ষা করে শেষমেষ অনুমতি দেওয়া হয়নি, এমনটাই অভিযোগ আয়োজকদের। তারা আপাতত এই বছর অনুষ্ঠানটি আয়োজন করছেন না, তবে তাদের মনে ক্ষোভ রয়েছে। ছাত্রদের পক্ষ থেকে রেজাউল করিম আজাদ চৌধুরী জানান, গত দুই বছর তারা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এই অনুষ্ঠান করেছেন এবং এতে বিভিন্ন ধর্মের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নিয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফেও অনেকেই এতে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এক বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রী এবং আমাদের সাধারণ বিশ্বাস নিয়েই একটা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলাম। তবে যখন আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে এনিয়ে অনুমতি চাইলাম, তারা আমাদের প্রায় দশ দিন ধরে ঝুলিয়ে রাখেন। কর্তৃপক্ষের তরফে বলা হয়, উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রার অনুপস্থিত। ১৯ মার্চ রেজিস্ট্রার আমাদের আবেদন দেখলেন এবং লিখে দিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনে অনুমতি দেওয়া হয় না। অথচ আমরা দেখেছি অতীতে অন্যান্য ধর্মের অনুষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়েছে। তাদের এই ব্যবহার আমাদের মনে আঘাত দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন উপাচার্য এক সপ্তাহ পরে আসবেন এবং তখন তার সঙ্গে কথা বলা যাবে। রমজান মাস অনেকটাই এগিয়ে গেছে এবং এক সপ্তাহ পরে আর বেশি দিন হাতে থাকবে না। ফলে আমরা এই বছর অনুষ্ঠানটি বাতিল করছি।’
রেজিস্ট্রার প্রদোষকিরণ নাথ বলেন, ‘ভারতীয় সংবিধানে বলা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন ধর্মীয় ভাবাবেগের স্থান নেই। আমাদের দেশ ধর্মনিরপেক্ষ এবং এখানে প্রত্যেক ধর্মের প্রতি আমাদের সমান মনোভাব। একাংশ পড়ুয়া একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের অনুমতির জন্য এসেছিল তবে আমি তাদের বলে দিয়েছি, আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। তারা চাইলে নিজেদের দায়িত্বে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারে। তবে কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের অনুমতিও দেবে না আবার অনুষ্ঠান আয়োজন করলে বাধাও যাবে না।’ বিষয়টি জনসমক্ষে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে ঝড় উঠেছে। তবে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।