অনলাইন ডেস্ক : শিক্ষক মহলে কান পাতলেই শোনা যায় তিনি নাকি “দুর্নীতির বাদশা”। ঊধারবন্দ খন্ড প্রাথমিক শিক্ষাধিকারিক(বিই ই ও)মাধব সাহা সম্পর্কে অভিযোগের তালিকা কয়েক মাইল দীর্ঘ হলেও এতদিন কেউই তাকে জালে আটকাতে পারেননি।তবে এবার ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে গেলেন রাজ্যের ডিরেক্টরেট অব ভিজিলেন্স এন্ড অ্যান্টি করাপশন-এর হাতে।
উধারবন্দ শিক্ষা খন্ডের এক প্রাথমিক স্কুল একত্রিকরণ হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের সঙ্গে। এই প্রক্রিয়ার মাঝে ওই প্রথমিক স্কুলের এক শিক্ষকের বেতন যাতে নিয়মিত থাকে এর জন্য বিইইও মাধব সাহা দশ হাজার টাকা ঘূষ দাবি করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক স্কুলের ওই শিক্ষক ব্যাপারটা জানান ডিরেক্টরেট অব ভিজিলেন্স এন্ড অ্যান্টি করাপশন এর কাছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ভিজি লেন্স এন্ড এন্টি করাপশনের একটি দল সোমবার গুয়াহাটি থেকে শিলচরে এসে পৌঁছায়। ওই দলটির আধিকারিকদের পরামর্শ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বিইইও মাধব সাহার সঙ্গে কথাবার্তা বলে ঠিক করেন মঙ্গলবার ১০ হাজারের মধ্যে ৭ হাজার টাকা তিনি তুলে দেবেন। বাকি ৩ হাজার দেবেন কাজ হওয়ার পর।
পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষক ৭ হাজার টাকা বিইইও মাধব সাহার হাতে তুলে দিতে তার কার্যালয়ে যান। এদিকে ভিজিল্যান্সের দলটি আগে থেকেই সাদা পোশাকে ওৎ পেতে ছিল কার্যালয়ে। শিক্ষক কার্যালয়ে পৌঁছে মাধব সাহার হাতে সাত হাজার টাকা তুলে দিতেই ভিজিলেন্সের দলটি তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। রাতে এ সংবাদ লিখা পর্যন্ত, ভিজিলেন্সের দলটি কার্যালয়ে মাধব সাহাকে ঘিরে নিজেদের বিভিন্ন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে মাধব সাহা ধরা পড়ার পর শিক্ষক মহল থেকে সন্তোষ ব্যক্ত করা হয়েছে। শিক্ষকদের অভিযোগ এই শিক্ষাধিকারিক একেবারে দুর্নীতির বাদশা বা শিরোমণি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘুষ ছাড়া তিনি নাকি কোনো কাজই করেন না। অবশ্য শুধু উদারবন্দ শিক্ষা খন্ডই নয়, মাধব সাহা এর আগে কর্মরত থাকা শ্রীভূমি জেলার রামকৃষ্ণ নগর শিক্ষা খন্ডের অধীনে কর্মরত শিক্ষকরাও এদিন উল্লাস ব্যক্ত করেছেন। তাদের বক্তব্য, রামকৃষ্ণনগরে থাকাকালীনও মাধব সাহা চরম দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে হাজারও অভিযোগ। কিন্তু তখন তাকে কিছুই করা যায়নি। এবার তিনি ধরা পড়ে যাওয়ায় রামকৃষ্ণনগর শিক্ষা খন্ডের শিক্ষকরাও যার পর নাই খুশি।
শিক্ষকদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বাস শর্মা রাজ্যের শিক্ষা খন্ডকে দুর্নীতিমুক্ত করে তুলতে চাইলেও একাংশ দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষাধিকারিকের দরুন তা হয়ে উঠছে না। ওই শিক্ষাধিকারিকরা শিক্ষা ক্ষেত্রেকে গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য। অন্যান্য শিক্ষাখণ্ডেও অবাধ দুর্নীতি চলছে বলে অভিযোগ এনে শিক্ষকরা সেসব শিক্ষাধিকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আর্জি জানিয়েছেন।




