অনলাইন ডেস্ক : অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী, তাই গ্যাস সিলিন্ডারবাহী গাড়িগুলোর যাতায়াতে অনেকটাই ছাড় দেওয়া হয়ে থাকে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে অনেক সময়ই পাচারকারীরা খালি গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতর লুকিয়ে পাচার করে থাকে বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী। এবার শিলচর পুলিশের জালে ধরা পড়লো এমন পাঁচ পাচারকারী। এদের পাকড়াও করে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে নেশায় ব্যবহৃত দেড় লক্ষ ইয়াবা ট্যাবলেট। নেশার বাজারে এসবের মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।
গ্রেফতার করা হয়েছে হাইলাকান্দি জেলার কাটলীছড়া তুতারবন্দের সেবুল হোসেন লস্কর(২৮),ওই জেলারই ধলছড়া বিলাইপুরের সাইদুর হোসেন বড়ভূইয়া(২৩),শিলচর কনকপুর প্রথম খন্ডের আফজল রাজ বড়ভূঁইয়া (৪৩), পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার সুটকা বাড়ির মতিউর ইসলাম (৫৩) ও শিলচর বেতুকান্দি পানিট্যাঙ্কি এলাকার তারামনি লস্কর (৫২)কে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,রবিবার গভীর রাতে তাদের কাছে খবর আসে, মিজোরামের দিক থেকে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বাহী লরিতে করে পাচার করা হচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেট।এই খবরের ভিত্তিতে শিলচরে বাইপাস জুড়ে নজরদারি শুরু হয়। এসবের মাঝে খবর আসে সোনা বাড়ি ঘাট সংলগ্ন দক্ষিণ কৃষ্ণপুর এলাকার পেট্রোল পাম্পের কাছে একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী
লরি থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামানো হচ্ছে। টহলদারি পুলিশের দল সেখানে ধাওয়া করলে একটি “প্রাইভেট কার” দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। আর লরি সহ এর সামনে থাকা একটি বোলেরো গাড়ির চালকরাও দ্রুত গাড়ি চালিয়ে বাইপাস ধরে পালাতে থাকে। পুলিশ পিছু ধাওয়া করে ঘুঙ্গুর এলাকায় বাইপাসের উপর লরি ও বোলরো গাড়ি আটক করে। দেখা যায় লরিতে রয়েছে প্রচুর খালি গ্যাস সিলিন্ডার। তল্লাশি চালিয়ে মনে হয় এর মধ্যে একটি সিলিন্ডারের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়েছে কোনও সামগ্রী। ভালোভাবে ওই সিলিন্ডারটি খুঁটিয়ে দেখার পর দেখা যায় নিচের দিকে একটা অংশ কাটা রয়েছে।কাটা অংশের টুকরো ফের পুটিন জাতীয় সামগ্রী দিয়ে জুড়ে এমন ভাবে রাখা হয়েছে যে এক নজরে কিছুই বুঝার উপায় নেই।ভালোভাবে নিরীক্ষণের পর পুটিন জাতীয় সামগ্রী দিয়ে জুড়ে রাখা কাটা অংশ খোলে ভেতরে পাওয়া যায় কয়েকটি প্যাকেটে থাকা প্রচুর পরিমাণে ইয়াবা ট্যাবলেট।এসব উদ্ধারের পর লরি এবং বোলেরো গাড়িতে থাকা সেবুল ও সাইদুরকে গ্রেফতার করা হয়। দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদে চালিয়ে জানা যায়,সোনাবাড়িঘাট পেট্রোল পাম্পের কাছ থেকে যে “প্রাইভেট কার” পালিয়ে গেছে লরি থেকে নামিয়ে সেই গাড়িতে করে এমন আরও দুটি সিলিন্ডার নিয়ে গেছে তারামনি ও মতিউর।এসব তথ্য পাওয়ার পর সোমবার বেতুকান্দি পানিট্যাঙ্কি সংলগ্ন এলাকায় তারা মনি ও মতিউরকে গ্রেফতারের পাশাপাশি একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয় দুটি সিলিন্ডার।এই দুটি সিলিন্ডারের ভেতরও পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে ইয়াবা ট্যাবলেট।সব মিলিয়ে তিনটি সিলিন্ডার থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে দেড় লক্ষ ট্যাবলেট। তারা মনি ও মতিউরকে গ্রেফতারের পর তাদের সূত্রে পাকড়াও করা হয় আফজলকে।
পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার পুলিশ আদালতে পেশ করে।আদালতের অনুমতিতে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে এদের মধ্যে তিনজন সেবুল,আফজল ও তারামনিকে তিনদিনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে পুলিশ রিমান্ডে।




