অনলাইন ডেস্ক : গুয়াহাটিতে ফের চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। এবার আততায়ীর শিকার সায়রা সুলতানা নামের বছর পঁচাত্তরের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পেছনের দিকের খোলা জায়গায় পাথরের নিচে পুঁতে রাখা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজধানী শহরের পাঞ্জাবাড়ি রংপুর রোডের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এদিন (মঙ্গলবার) সকালে যখন পুলিশ বাড়িতে ঢোকে, ঘরের ভিতরে থমথমে নিস্তব্ধতা। বাথরুমে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। বাড়ির পেছনের খোলা জায়গায় একটি অস্বাভাবিক পাথরের স্তূপ নজরে আসে তদন্তকারীদের। সেটি সরাতেই বেরিয়ে আসে সায়রার নিথর দেহ, যা চাপা দেওয়া হয়েছে সুনিপুণ ভাবে। এই ঘটনায় হাইলাকান্দির বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ ওরফে জুনাম নামের এক ব্যক্তিকে পলাশবাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, সোমবার দুপুর একটা নাগাদ খুন করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা-কে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অপরাধ সংঘটিত করার পর অভিযুক্ত আব্দুলকে দরজায় তালা দিয়ে বাড়ির বাইরে চলে যেতে দেখা গিয়েছে। সন্দেহ করা হচ্ছে হাইলাকান্দির বাসিন্দা জুনাম সায়রার পূর্ব পরিচিত। ফলে সন্দেহভাজন অপরাধী ও ভিক্টিম-র হাইলাকান্দি সংযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুনটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, কিংবা কোনও আর্থিক বা ব্যক্তিগত কারণে ঘটেছে কিনা –খতিয়ে দেখা হচ্ছে তা-ও। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোমবার সায়রা সুলতানাকে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল একটি ব্যাংকে। পরের দিন জুনামকে সায়রার বাড়ি থেকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। সে সময় জুনামকে বেশ উদ্বিগ্ন এবং ঘামতে দেখা গিয়েছিল। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিবেশীদের অভিযুক্ত জানায়, সায়রা অসুস্থ এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু যখন প্রতিবেশীরা কাছের হাসপাতালে যোগাযোগ করেন, তখন সেখানে তার ভর্তি হওয়ার কোনও তথ্য পাননি। বাড়ির দরজাও ছিল তালাবন্ধ। তাই শেষপর্যন্ত বিষয়টি পুলিশকে জানান তারা। এদিকে, তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। ফরেনসিক পরীক্ষা-ও চলছে।





