অনলাইন ডেস্ক : ১০০ কোটিরও বেশি ভুয়ো ইনভয়েস তৈরি করে বিরাট পরিমাণের জিএসটি ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে কাছাড় জেলার বাসিন্দা ব্যবসায়ী ইসহাক আহমেদকে। সোমবার (১৬ জুন) অসম রাজ্যের ট্যাক্সেশন দফতরের আধিকারিকরা তাঁকে শিলচর থেকে গ্রেফতার করেন। আধিকারিকরা জানিয়েছেন এই ব্যক্তি অন্তত ২৫ কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারি করেছে এবং তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে। রাজ্যের জিএসটি কমিশনারেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের রাজস্বে বিপুল ক্ষতির প্রেক্ষিতেই একটি অভিযান চালানো হয় এবং টানা তদন্তের পর এই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। ইসহাক আহমেদ খুশি ডিজিটাল পেমেন্টস্ প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি কোম্পানির অনুমোদিত প্রতিনিধি। গুয়াহাটির কর ভবনের তদন্তকারীরা ৯ জুন থেকে তদন্ত শুরু করেন। ১৪ জুন তাকে গ্রেফতার করার পর ১৬ জুন পর্যন্ত তার কোম্পানির দফতরে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক ভুয়ো লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়। জানা গেছে, মেসার্স দেবীকৃপা এন্টারপ্রাইজ নামের অন্য একটি সংস্থার কাছ থেকে প্রাপ্ত ১০০,১৬,৯২,১২৬ টাকার ইনভয়েস দেখিয়ে ইসহাক আহমেদ তার সংস্থার নামে ১৫,২৮,০০,৪৯৩.৮৭ টাকার ভুয়ো ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (আইটিসি) আদায় করছে। আধিকারিকদের মতে, সে অন্তত ১০,৬৪,৮৬,৫৬৯.১৩ টাকার ভুয়ো আইটিসি অন্যান্য সংস্থাকে সরবরাহ করেছে, যেখানে বাস্তবে কোনো পণ্য বা পরিষেবার আদান-প্রদান হয়নি। রাজ্য কর বিভাগের দাবি, অর্থনৈতিক প্রতারণার অপরাধে ১৪ জুন তাঁকে শিলচরে গ্রেফতার করা হয় এবং সোমবার তাকে আদালতে পেশ করা হয়। শুনানির পর বিচারক তাঁকে ১৪ দিনের জুডিশিয়াল কাস্টডিতে পাঠান। আয়কর বিভাগের অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার, রনিত রায় বলেন, ‘দুটো মামলায় এই ব্যক্তি মোট ২৫ কোটি টাকার ঘোটালা করেছে এবং তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে। এটি বিভাগের একটি বড়সড় সাফল্য। এক সপ্তাহে কর বিভাগের দ্বিতীয় বড়সড় গ্রেফতার। এধরণের প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। দুই কোটির বেশি কর ফাঁকির প্রমাণ মিললে গ্রেফতার অনিবার্য। এই ঘটনায় ফের একবার প্রমাণ হয়েছে, অসম সরকার ও রাজস্ব বিভাগ জিএসটি ব্যবস্থার প্রতি কড়া নজরদারি রাখে এবং যারা কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ নেয় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আধিকারিকরা জানান, জুনের মাঝামাঝি সার্চ-অ্যান্ড-সিজার অভিযান চালিয়ে বহু নথিপত্র উদ্ধার করেছে করদপ্তর । ইসহাক একজন সিএ-এর সাহায্য বিভিন্ন নথি বানিয়ে নিজের কাজকে সঠিক দেখানোর চেষ্টা করলেও সে এটা প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়। তার অধীনে কাজ করা এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তার পরিচয় ব্যবহার করে ইসহাক বিভিন্ন নথি বানিয়েছে এবং সেগুলো ভুলভাবে ব্যবহার করেছে। ওই ব্যক্তিও ইসহাকের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করেছেন।





