অনলাইন ডেস্ক : ধলাই থানার শ্যামাচরণপুর-শেওরারথল জেলা পরিষদ এলাকায় এক রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জেলা পরিষদ এলাকার রাজনগর-খুলিছড়া গ্রামের বাসিন্দা, ৬০ বছর বয়সী আইন উদ্দিন লস্কর ( বাচন) গত ২৯ জুন থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। আজ ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারের উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। পরিবার ও স্থানীয়দের জোর আশঙ্কা, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গভীর জঙ্গলে লাশ গুম করা হয়েছে।
আইন উদ্দিনের স্ত্রী সামছুন নেছা লস্কর ৩০ জুন ধলাই থানায় একটি নিখোঁজ সংক্রান্ত এজাহার দায়ের করেন। এরপর থেকেই পুলিশ তদন্তে নামে, তবে এখনো কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি। হতদরিদ্র আইন উদ্দিন পেশায় একজন সবজি ব্যবসায়ী ছিলেন, যিনি লোকজনের বাড়ি থেকে সবজি কিনে স্থানীয় হাটে বিক্রি করতেন। তার পরিবার, স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ, অত্যন্ত দুর্গম ও জঙ্গলবেষ্টিত এলাকায় বসবাস করে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন এক পরিচিত প্রতিবেশী আইন উদ্দিনের মোবাইল নম্বর জানতে বাড়িতে এসেছিল, যার সঙ্গে পূর্ব থেকে শত্রুতা ছিল। সেই সূত্র ধরে আইন উদ্দিনের আত্মীয় ইসলাম উদ্দিন লস্কর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করে ৯ জুলাই থানায় একটি পৃথক এফআইআর দায়ের করেছেন। পুলিশ উক্ত ব্যক্তিকেও তদন্তের আওতায় এনেছে। এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় জনগণও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। রাজনগর-খুলিছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নবনির্বাচিত সভাপতি ইমরান হোসেন বড়ভুঁইয়ার নেতৃত্বে প্রায় ২০-২৫ জনের একটি দল জঙ্গলে ঢুকে খোঁজ চালায়, কিন্তু কোনো সন্ধান মেলেনি।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আইন উদ্দিনের বাড়ি এমন এক দুর্গম এলাকায় অবস্থিত, যেখানে দিনের আলোতেও যাতায়াত করা ভয়ানক। চারদিকে ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই এলাকায় যদি কেউ কাউকে খুন করে লাশ পুঁতেও দেয়, তা সহজে কেউ টের পাবে না বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিবার ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি—সতর্ক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাধ্যমে আইন উদ্দিনের অন্তর্ধানের রহস্য উদ্ঘাটন হোক, এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পুলিশও আশ্বাস দিয়েছে, তারা তদন্ত জোরদার করেছে এবং সত্য উদঘাটনে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।




