অনলাইন ডেস্ক : শিলচর শহরে ধরা পড়লো রোহিঙ্গাদের ১০ জনের একটি দল। যাদের মধ্যে রয়েছেন ৪ জন পুরুষ,৩ জন মহিলা এবং ৩টি শিশু।
জানা গেছে ১০ জনের দলটিকে মঙ্গলবার সকালে শহরের তারাপুর কালীবাড়ি রোডে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয় লোকেদের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। এরপর ১০ জনকে সমঝে দেওয়া হয় পুলিশের কাছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আটক ১০ জনের মধ্যে কয়েকজনের কাছে পাওয়া গেছে পরিচয় পত্র। এরমধ্যে ৫ জনের নাম জানা গেছে। এরা হলেন মোঃ সুলতান (৬২), সামারুক বেগম(৫২), মো: সেলিম(৩৮), তসলিমা বেগম (১৮) ও হামিদ হোসেন(২০)।
স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা বাদে এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লোকেরা যে তথ্য দিয়েছেন সে অনুযায়ী তারা মূলত মায়ান্মারের বাসিন্দা। দীর্ঘ বছর আগে মায়ান্মারে জাতি দাঙ্গার দরুন পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন বাংলাদেশের শরনার্থী শিবিরে। সেখান থেকে প্রায় ১৩-১৪ বছর আগে কাজের সন্ধানে দালালদের সহায়তায় ভারতে ঢুকে হায়দরাবাদে চলে যান। হায়দরাবাদে কাজ করতেন এক কারখানায়। কিছুদিন ধরে সেখানে ধরপাকড় শুরু হওয়ায় তারা বাংলাদেশে ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। তাই ট্রেনে চড়ে হায়দরাবাদ থেকে এদিন সকালেই শিলচরে এসে পৌঁছান।
এদিকে ১০ জনের দলটিকে তারাপুর কালীবাড়ি রোডে এদিন যেভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় এথেকে অনুমান করা হচ্ছে, সেখানে তারা কোন দালালের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
প্রসঙ্গত দেশের বিভিন্ন বড় বড় শহরে বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের ধরপাকড় শুরু হওয়ার পর গত কয়েক মাসে এ জেলার কাটিগড়ার বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজনকে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গা মিলিয়ে সাম্প্রতিককালে কাটিগড়ায় ধরা হয়েছে প্রায় দেড়শত জনকে। এদের সূত্রে জানা গেছে, দালালরা তাদের কাটিগড়ার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাবার ব্যবস্থা করে দেবে বলে নিয়ে এসেছিল। তবে এদিনের দলটির কাটিগড়ার বদলে শিলচরে চলে আসাটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।, কাটিগড়ায় সাম্প্রতিককালে বহু রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি ধরা পড়ায় সেখানে নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। অনুমান করা হচ্ছে এই পরিস্থিতিতে নজরদারি এড়িয়ে ত্রিপুরায় নিয়ে বা অন্য কোন সীমান্ত দিয়ে দলটিকে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য শিলচরে নিয়ে এসেছিল দালালরা।




