অনলাইন ডেস্ক : জয়ন্ত প্রসাদ দাস , যিনি বিশেষভাবে পরিচিত জে পি দাস হিসেবেই। শিলচর ট্রাঙ্ক রোড মৌসুমী হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী এই বিতর্কিত চিকিৎসককে পুলিশ গ্রেফতারের পর তাঁর সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
বুধবার গ্রেফতার হওয়ার পর জে পি দাস বর্তমানে রয়েছেন পুলিশের হেফাজতে। তাকে জোর জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক কালে জেলায় শিব সুন্দরী নারী শিক্ষাশ্রম থেকে পুলক মালাকার সহ অন্যান্য স্থানের যেসব ভুয়ো চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের সার্টিফিকেট সরবরাহ করার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে জে পি দাসকে। যদিও জে পি দাস নিজে কতখানি স্বীকৃত ডিগ্রিধারী চিকিৎসক এনিয়েও সৃষ্টি হয়েছে সন্দেহের।
সিনিয়র পুলিশ সুপার নূমল মাহাতো জানিয়েছেন, পুলক মালাকারকে গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে জে পি দাস সম্পর্কে জানা যায়।
পুলক জানান, তিনি যে সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে চিকিৎসক সেজেছিলেন তা তাকে সরবরাহ করেছেন জে পি দাস। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস(এনআইএমএস) নামে এক প্রতিষ্ঠান রয়েছে জেপি দাসের। ওই প্রতিষ্ঠানের নামেই মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সার্টিফিকেট ইস্যু করেছিলেন জে পি দাস। পুলক মালাকারের পর গ্রেফতার হওয়া অন্য কয়েকজন ভুয়ো চিকিৎসকও একইভাবে জেপি দাসের প্রতিষ্ঠান “এন আই এম এস” থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তাদের বয়ান সহ আনুষাঙ্গিক তথ্য খতিয়ে দেখে এরপর এবার গ্রেফতার করা হয়েছে জে পি দাসকে।এসএসপি মাহাতো আরো জানান, “এনআই এম এস”নামের প্রতিষ্ঠানটির কোন ধরনের স্বীকৃতি বা বৈধতা নেই।গ্রেফতারের পর জেপি দাস কে জিজ্ঞাসাবাদ চালালে,তিনি অবশ্য দাবি করেন “এন আই এম এস”বন্ধ করে দিয়েছেন বেশ কয়েক বছর আগে। যদিও সব কিছু খতিয়ে দেখার পর স্পষ্ট হয়ে গেছে, আড়ালে আড়ালে এখনো প্রতিষ্ঠানটি চালু রেখে সার্টিফিকেট বিক্রির কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন জে পি দাস। তবে জে পি দাস সম্পর্কে আরো গুরুতর তথ্য হলো,তিনি নিজে যে সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে কয়েক দশক ধরে রোগীদের চিকিৎসা করে আসছিলেন তা কতখানি বৈধ এ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে পুলিশের।এস এস পি জানান,জেপি দাসের বয়ান অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশের সিলেটের এক প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসা শাস্ত্রের ডিগ্রি নিয়েছেন।যদিও ওই ডিগ্রী কতখানি বৈধ এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।এ নিয়ে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
জেপি দাসের বাংলাদেশের মেডিকেল সার্টিফিকেট পুলিশের কাছে সন্দেহজনক মনে হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের অভিমত কিন্তু সম্পন্ন উল্টো।২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় জেপি দাসের নথিপত্র সম্পর্কে তথ্য চেয়ে কাছাড়ের স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম সঞ্চালকের কাছে আবেদন করেছিলেন শিলচর সেকেন্ড লিংক রোড এলাকার বাসিন্দা এক ব্যক্তি।এর জবাবে এ বছর ২৫ জুলাই যুগ্ম সঞ্চালকের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়,জেপি দাসের সব নথিপত্র সম্পূর্ণ বৈধ। স্বাস্থ্য বিভাগ কিসের ভিত্তিতে জেপি দাসকে এভাবে ক্লিনচিট দিয়েছে, এনিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।
এদিকে জেপি দাস গ্রেফতার হওয়ার পর তার অন্যান্য কার্যকলাপ নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।গত ৯ অক্টোবর ট্রাঙ্ক রোডে মৌসুমী হাসপাতালের পাশে তারই পারিজাত হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালান একদল মহিলা কর্মী।ওই মহিলা কর্মীরা সেদিন অভিযোগ করেন মৌসুমী হাসপাতালের গায়ে লেগে থাকা জেপি দাসের অন্য প্রতিষ্ঠান “জেনো হেল্থ স্পা”-তে চলে সেক্স রেকেট।এ নিয়ে জিজ্ঞেস করলে এস এস পি জানান, গত ১১ আগস্ট উধারবন্দের লাঠিগ্রাম এলাকায় মহাসড়কের পাশে জেপি দাসের অন্য এক হোটেল ও রেস্টুরেন্টে অভিযান চালানো হয়েছিল। সেদিন ওই হোটেলে কিছু যুবক যুবতিকে আপত্তিজনক অবস্থায় পাওয়া যায়। এনিয়েও নথিভুক্ত করা হয়েছে এক মামলা।





