অনলাইন ডেস্ক : শ্রীকোনা গুড়বস্তিতে হোসেন আহমদ (৪২) নামে ব্যবসায়ীর খুনের ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করল একজনকে। ধৃত হিলাল আহমদ(৪০) শ্রীকোনা হাতিরহাড়ের বাসিন্দা । হিলালকে গ্রেফতারের পাশাপাশি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে আরও দুজনকে। সন্দেহ করা হচ্ছে হত্যাকাণ্ডে হিলাল সহ জড়িত রয়েছে আরও কয়েকজন।
পুলিশের এক সূত্র জানান, এপর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে সে অনুযায়ী এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ককে ঘিরে ঘটেছে হত্যাকান্ড। যে মহিলাকে ঘিরে ঘটনা ঘটেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে তার বাড়িও হাতিরহাড়ের আশপাশ এলাকায়। মাঝবয়সী ওই মহিলার স্বামী কাজের সূত্রে থাকেন অন্যত্র। মহিলার বছর ১৭-র এক ছেলেও রয়েছে। সূত্রটি জানান, মহিলা বেশ কিছুদিন ধরে হিলালের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে রয়েছেন। পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে থাকলেও মহিলার স্বামী এবং ছেলের সঙ্গেও হিলালের সম্পর্ক বেশ ভালো। গত ২৯ জুন রাতে হোসেন আহমদ খুন হওয়ার কিছুদিন আগে থেকে হিলালের মনে তাকে ঘিরে জেগে উঠে সন্দেহ। প্রেমিকা ওই মহিলার সঙ্গে হোসেন আহমেদেরও সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলে সন্দেহ করে হিলাল মনে মনে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে।
হিলালকে গ্রেফতারের পাশাপাশি পুলিশ ইতোমধ্যে প্রেমিকা মহিলাকেও বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে যে তথ্য উঠে এসেছে, সে অনুযায়ী ২৯ জুন ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে মহিলা শ্রীকোনা ডেইলি বাজার এলাকায় হোসেন আহমদের দোকানেও গিয়েছিলেন। তখন সেখানে তাকে দেখে ফেলে হিলাল। এই ঘটনায় হিলালের সঙ্গে মহিলার ছেলেকেও সন্দেহের আওতার বাইরে রাখতে পারছে না পুলিশ। জানা গেছে ঘটনার পরই প্রেমিকা মহিলা, তার ছেলে এবং হিলাল তিনজনের মোবাইলেই “ফরম্যাট” মেরে সব তথ্য উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ থেকেই সন্দেহের আওতায় চলে এসেছে মহিলার ছেলেও।
প্রসঙ্গত ২৯ জুন রাতে হোসেন আহমদ তার দোকান বন্ধ করে গুড়বস্তির বাড়িতে যাওয়ার পথে খুন হন। পরদিন সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে রাস্তায় তার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এদিকে হিলালকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার পুলিশ তাকে আদালতে পেশ করে। আদালতের অনুমতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে পুলিশ হেফাজতে।





