অনলাইন ডেস্ক : আগামী ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসছেন বরাক উপত্যকায়।উপত্যকার অন্যতম শহর শিলচরের উপকণ্ঠে চন্দ্রপুর তৃতীয় খন্ড এলাকায় বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে জোর কদমে।

এর জন্য এই পাড়াগাঁয়ে মন্ত্রী- বিধায়ক থেকে ধরে শাসক দল এবং পুলিশ ও প্রশাসনের ডাবর তাবড় কর্মকর্তাদের আনাগোনা লেগেই রয়েছে। সোমবার প্রস্তুতির কাজ খতিয়ে দেখেন বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৌশিক রায়। সেখানেই এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সভার মাধ্যমে বরাকের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সূচনা হতে চলেছে নব দিগন্তের।
২ বিধায়ক দিপায়ন চক্রবর্তী ও নীহার রঞ্জন দাস,বিজেপি জেলা সভাপতি রূপম সাহা এবং দলের জেলা কমিটির ২ সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ রায় ও গোপাল কান্তি রায়দের সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে কৌশিক জানান,সভার জন্য ৩০ লক্ষ বর্গফুট (প্রায় ২০৮ বিঘা) জমি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তৈরি করা হচ্ছে প্রায় ৫ লক্ষ বর্গফুটের সুবিশাল টেন্ট, হেলিপ্যাড থেকে ধরে আনুসাঙ্গিক অন্যান্য ব্যবস্থাদি। থাকবে ৪০টি জায়ান্ট স্ক্রিনও। সভা শুরু হবে সকাল ৯ টায়,এতে ২ লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে বলে তাদের আশা।
সভাস্থলের এই বিবরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন,প্রধানমন্ত্রী এর আগে ৫ বার বরাক উপত্যকায় এসেছেন।তবে এবারের তার সফরসূচির আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে। এবার তিনি আসছেন বরাকবাসীর জন্য বিশেষ উপহার নিয়ে। সভায় প্রধানমন্ত্রী বড়াপানি -পাঁচগ্রাম হাই স্পিড এক্সপ্রেসওয়ে, শিলচর শহরে ফ্লাইওভার এবং
পাথারকান্দির কৃষি বিজ্ঞান কলেজের শিলান্যাস ছাড়াও শিলচর থেকে বদরপুর হয়ে
চুরাইবাড়ি পর্যন্ত রেললাইনে ৬৫৫ কোটি টাকা ব্যায়ে
বৈদ্যুতিকরণের যে কাজ করা হয়েছে তার উদ্বোধন করবেন। হাইস্পিড এক্সপ্রেসওয়ে প্রসঙ্গে তিনি জানান এর জন্য ব্যয় করা হবে ২২,৮৬৪ কোটি টাকা।পাঁচগ্রাম থেকে বড়াপানি পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য হবে ১৬৬ ‘ ৮ কিলোমিটার।বাকি অংশ মিলিয়ে এই পথের উপর দিয়ে শিলচর থেকে গুয়াহাটি যেতে অতিক্রম করতে হবে সবমিলিয়ে প্রায় ২৯৫ কিলোমিটার। এভাবে ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘন্টায় শিলচর থেকে গুয়াহাটি পৌঁছানো সম্ভব হবে। সঙ্গে ৬৫৫ কোটিতে শিলচরে ফ্লাইওভার এবং ১২২ কোটিতে পাথারকান্দিতে গড়ে উঠতে যাওয়া কৃষিবিজ্ঞান কলেজের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সব মিলিয়ে ১৪ মার্চের সভায় প্রধানমন্ত্রী ২৪, ২০৫ কোটি টাকার কাজের উদ্বোধন শিলান্যাস করবেন। আর এসবের মারফত বরাক উপত্যকায় সূচনা হবে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত। এ প্রসঙ্গে বিশেষত হাই স্পিড এক্সপ্রেসওয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তর পূর্বাঞ্চলে এধরনের সড়ক আর নেই। প্রধানমন্ত্রী বরাকবাসীকে উপহার দিতে চলেছেন এমন এক সড়ক। এই কাজ শেষ করার জন্য ৩ বছরের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। কাজ শেষ হয়ে গেলে উপত্যকার জন্য খুলে যাবে অনেক সম্ভাবনার দ্বার।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপাল লক্ষণ প্রসাদ আচার্য, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালও উপস্থিত থাকবেন বলে তিনি জানান।
এদিন মন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনের পর সভাস্থল ঘুরে দেখা যায় কাজ করছেন অর্ধশতেরও বেশি সংখ্যক লোক।প্রায় ৫ লক্ষ বর্গফুটের “টেন্ট”-এর শেষ ভাগে যেখানে মঞ্চ তৈরি হবে সেখান থেকে পেছনদিকে হেলিপ্যাড পর্যন্ত তৈরি হচ্ছে প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ পিচের রাস্তা। রাস্তা তৈরীর তদারকিতে নিয়োজিত ঠিকাদার সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান
রাস্তার প্রস্থ ৭ মিটার।প্রধানমন্ত্রী হেলিপেডে অবতরণের পর গাড়িতে করে এই রাস্তা দিয়ে
পৌঁছাবেন মঞ্চের পেছন পর্যন্ত। এরপর মঞ্চে উঠে নির্ধারিত কাজগুলোর উদ্বোধন ও শিলান্যাস সেরে বক্তব্য রাখবেন। ওই কর্মকর্তা জানান, “টেন্ট” এমন ভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে করে অনুষ্ঠানের সময় বৃষ্টি হলেও কোন সমস্যা হবে না। দর্শক- শ্রোতারা ছাউনির তলায় স্বচ্ছন্দে বসে থেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে পারবেন।





