অনলাইন ডেস্ক : “সোশ্যাল ওয়ার্ক” বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অজিত কুমার জানার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন আচরণের অভিযোগকে ঘিরে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি। পুলিশ জানিয়েছে, অজিত বাবুর খোঁজ চলছে তবে তিনি গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অজিত বাবুকে এক মাসের জন্য ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অজিত বাবুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে দিনভর ধরনা দেন। পড়ুয়ারা অজিত বাবুকে শীঘ্র গ্রেফতার ও সাসপেন্ড করার দাবি জানান।
“সোসাল ওয়ার্ক” বিভাগের একাংশ ছাত্রী আতঙ্কের সুরে বলেন,এমন যৌনবাদী একজন শিক্ষক ফের ক্লাস করাতে এলে তারা এতে সচ্ছন্দে যোগ দিতে পারবেন না।সবসময়ই থাকতে হবে আতঙ্কের মধ্যে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,এদিন অধিক বাবুর খুঁজে তল্লাশি চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এসব ঘটনাক্রমের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এদিন “ই-মেল”-এ অজিত বাবুর কাছে এক চিঠি পাঠান।চিঠিতে তাকে এক মাসের জন্য ছুটি চেয়ে আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে এও বলা হয়েছে, ছুটির এই সময়কালে তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি বিনে শিলচর ছেড়ে যেতে পারবেন না।এর পাশাপাশি এই সময় কালের মধ্যে বিনা অনুমতিতে তার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সূত্র জানান তিন ছাত্রী অজিত বাবুর বিরুদ্ধে যৌনধর্মী আচরণের যে অভিযোগ এনেছেন তা খতিয়ে দেখার জন্য অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।একইভাবে অজিত বাবু তাকে হেনস্তা সহ অন্যান্য অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে যে চিঠি পাঠিয়েছেন,তা খতিয়ে দেখতেও এক পৃথক কমিটি গঠন করা হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এভাবে যৌনতার অভিযোগ উঠায় পড়ুয়াদের পাশাপাশি,অভিভাবক মহলেও সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্কের। অভিভাবকদের বক্তব্য কিছুদিন পর পরই যেভাবে একেক জন শিক্ষকের নাম যৌন কান্ডে জড়াচ্ছে এতে তারা মেয়েদের ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠানোর ক্ষেত্রে আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক,এক অভিভাবক বলেন বরাকবাসীর দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একাংশ শিক্ষক যেভাবে যৌনতার আখড়ায় পরিণত করেছেন তা খুবই উদ্বেগের বিষয়। এসব প্রতিরোধে সমাজের সব শ্রেণীর মানুষকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবকরা।




