অনলাইন ডেস্ক : একদিকে যখন গত কয়েকদিনের তুমুল বর্ষণের দরুন জমাজলে থৈ থৈ করছে কাছাড়ের বিভিন্ন এলাকা,তখন বরাক সহ উপনদী গুলো ক্রমেই হয়ে উঠছে ভয়ংকর। এতে জেলার জনজীবনে ভোগান্তির মাত্রা পৌঁচেছে চরমে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেলায় জলবন্দী হয়ে রয়েছেন এক লক্ষেরও অধিক সংখ্যক লোক।এরমধ্যে সোনাই কাপ্তানপুর ত্রয়োদশ খন্ডে জলে ডুবে মৃত্যু ঘটেছে এক শিশুর।
শিলচর অন্নপূর্ণা ঘাটে বরাক নদীর বিপদসীমা ১৯’৮৩ মিটার।শনিবার রাত ১ টায় সেখানে জলস্তর ছিল ১৮’৪৩ মিটার। এরপর বাড়তে বাড়তে রবিবার সকাল ৯ টায় বিপদসীমা ছাড়িয়ে জলস্তর পৌঁছে যায়
১৯’৮৯ মিটারে। এই সময় থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত জল বাড়তে থাকে খুবই দ্রুতগতিতে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১১টা পর্যন্ত এক ঘন্টা সময়ের মধ্যে জল বাড়ে সবচেয়ে বেশি ৪১ সেন্টিমিটার। দুপুর একটা থেকে অবশ্য জল বাড়ার গতি অনেকটা কমে এসে দাঁড়ায় ঘন্টায় ২-৩-৪ সেন্টিমিটার করে।
বরাকের পাশাপাশি ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠছে তার উপনদীগুলোও। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভয় ধরাচ্ছে মধুরা ও জাতিঙ্গা। শিলচর রংপুর মধুরা সেতু সংলগ্ন এলাকায় মধুরা নদীর বিপদসীমা ২০”৯০ মিটার।
রবিবার সন্ধ্য ৬টায় সেখানে জল বইছিল এর অনেক উপর দিয়ে২২’৬৩ মিটার উচ্চতায়। জাতিঙ্গা নদীর বিপদসীমা ১৭’২০ মিটার। এই নদীও বইছে বিপদ সীমার অনেক উপর দিয়ে। সন্ধ্যা ৬টায় নদীর জলস্তর ছিল ১৯’৭৪ মিটার। বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে রুকণী নদীও। ওই নদীর বিপদ সীমা ২৪’৫৮ মিটার, সন্ধ্যা ৬ টায় নদীর জলস্তর ছিল ২৬’৬৩ মিটার, এরপরও জল বাড়ছে। চিরি এবং সোনাই নদীতে জল বাড়লেও সন্ধ্যা ৬ টার রেকর্ড অনুযায়ী বইছে বিপদ সীমার কিছুটা নিচে দিয়ে। যদিও জল যেভাবে বাড়ছে এতে বিপদসীমা অতিক্রম হতে খুব বেশি সময় লাগবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নদীগুলোতে জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ছে। একে তো বিভিন্ন এলাকা আগে থেকেই ডুবে রয়েছে, এর উপর নদীর জল ঢুকে অবস্থা আরো সঙ্গিন করে তুলেছে। শিলচর রাজস্ব চক্রের বদরপুর প্রথম খন্ডে রাস্তার ভগ্ন অংশের উপর দিয়ে বইছে বরাক নদীর জল। কাটিগড়ায় বিহাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনেও রাস্তার উপর দিয়ে বইছে হারাং নদীর জল। এদিন সোনাই রাজস্ব চক্রের কাপ্তানপুর ত্রয়োদশ খন্ড এলাকায় জলে ডুবে মৃত্যু ঘটেছে জাবির হোসেন বড় ভূঁইয়া নামে সাত বছরের এক শিশুর। কাপ্তানপুরে জলবন্দী মানুষদের উদ্ধারে কাজে লাগানো হয় এসডিআরএফ কে।

সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, জেলায় মোট ৮৯ টি রাজস্ব গ্রাম রয়েছে জলের তলায়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৭টি রাজস্ব গ্রাম রয়েছে উধারবন্দ চক্রে। রয়েছে শিলচর চক্রের ১৮, কাটিগড়া চক্রের ১২, লক্ষীপুর চক্রের ৬ এবং সোনাই চক্রের ১৬টি রাজস্ব গ্রামও। এই ৮৯ টি রাজস্ব গ্রামের মোট ১,০৩,৭৯০ জন লোক পড়েছেন বন্যার কবলে। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৪১,৩৯৩, মহিলা-৩৬,২৯১ এবং শিশু-২৬,১০৬। জলের তলায় রয়েছে ৪৬০ হেক্টর কৃষি জমি। ঘর বাড়ি জলে ডুবে যাওয়ায় ৫০৬৬ জন লোক আশ্রয় নিয়েছেন মোট ২৩টি আশ্রয় শিবিরে।
জল সম্পদ বিভাগের কাছাড় সংমন্ডলের নির্বাহী বাস্তকার কে জামান জানিয়েছেন, জেলায় বাঁধকে ঘিরে কোথাও আশঙ্কার কিছু নেই। ঘাঘরাপার এলাকায় দুটি স্থানে কিছু সমস্যা থাকলেও সেসব মেরামত করা হয়েছে। আর শিলচর বেরেঙ্গা নাথ পাড়া নিয়ে বক্তব্য, সেখানে আশঙ্কার কিছু নেই।




