অনলাইন ডেস্ক : ফের জেলাজুড়ে বন্যার আতঙ্ক। গত দু-তিন দিনের ধারাবর্ষণে শিলচর শহর ও আশপাশ এলাকা -সহ প্লাবিত হয়েছে কাছাড়ের বিভিন্ন এলাকা। লাগাতার জল বাড়ছে বরাকে। শনিবার সকাল ১১টায় শিলচর অন্নপূর্ণা ঘাটে জলস্তর ছিল ১৫.৫৭ মিটার। বিকেল ৫টায় সেটা দাঁড়িয়েছে ১৬.৬৫ মিটারে গিয়ে। যা বিপদসীমা (১৯.৮৩ মিটার) থেকে মাত্র ৩.১৮ মিটার নিচে। বিকেল ৪টা থেকে ৫টা– এই এক ঘণ্টায় জল বেড়েছে ২০ সেন্টিমিটার। আশঙ্কা করা হচ্ছে, জলস্তর বৃদ্ধির এই হার অপরিবর্তিত থাকলে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করবে বরাক। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আঞ্চলিক হাওয়া দফতর। পরিস্থিতি বিচারে জেলা জুড়ে সতর্ক বার্তা জারি করেছে রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ। বলা হয়েছে, হাইড্রো-মেটেরোলজিকাল বিশ্লেষণ অনুযায়ী কাছাড় ছোটখাটো বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে।
সতর্কবার্তায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, শিলচর, লক্ষীপুর, কাটিগড়া এবং সোনাই রাজস্ব সার্কেলগুলি বন্যার সম্ভাব্য প্রভাবের আওতায় পড়তে পারে। এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদী—বরাক, জটিঙ্গা, সোনাই, রুকনি এবং তাদের উপনদীগুলির জলস্তর আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ফলে নিম্নাঞ্চলগুলি জলের তলায় চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতার জন্য ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন নম্বর ০৩৬১–২২৩৭২১৯ চালু করেছে রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, উড়ো খবরে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষে বলা হয়েছে, ‘আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা এবং একটানা ভারি বর্ষণের প্রেক্ষিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে শিলচর শহরের নিচু অংশে জলাবদ্ধতা ও বন্যার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বরাক নদীর জলস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।” জেলাবাসীকে অনাবশ্যক যাতায়াত পরিহার, বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখা, গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র উচ্চস্থানে সংরক্ষণ, শুকনো খাবার, পানীয় জল ও ওষুধ-সহ জরুরি কিট প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সম্ভাব্য স্থানান্তর বা উদ্ধারের বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্ৰশাসন জানিয়েছে, সব বিভাগকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে এবং শিলচর পুরসভাসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টা কাজ চলছে।’ সর্বশেষ পরিস্থিতি হচ্ছে, ধারাবর্ষণে থৈথৈ করছে গোটা শহর। শিলচর রাঙ্গিরখাড়ি, ন্যাশনাল হাইওয়ে পয়েন্ট, দাস কলোনি সোনাই রোড, লিংক রোড, চার্চরোড, বিবেকানন্দ রোড, মালুগ্রাম, বিলপার, মালিনীবিলসহ শহরের বহু এলাকা চলে গিয়েছে জলের তলায় । বন্যা সদৃশ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার জন্য শহরের কিছু অংশে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন অনেকে।




