অনলাইন ডেস্ক : দুপুরে বুদ্ধদেববাবুর মৃতদেহ শহরের মালুগ্রাম আর্যপট্টির বাড়িতে এসে পৌঁছার পর সামনে দাঁড়িয়ে অঝোর ধারায় চোখের জল ঝরাচ্ছিলেন এক বৃদ্ধ। কাঁদতে কাঁদতে আপন মনে বলে চলছিলেন-“প্রায়ই আমায় আর্থিক সহ অন্যান্যভাবে সাহায্য করতেন। কিন্তু বারণ করে দিয়েছিলেন, অর্থসাহায্যের কথা কাউকে না জানাতে।এবার বিপদের সময় কার কাছে ছুটে যাব এভাবে ভরসা করে।”
শিলচরের প্রথম সারির ওষুধ ব্যবসায়ী “ড্রাগস কর্নার” নামে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তথা সমাজকর্মী ও কংগ্রেস কর্মকর্তা বুদ্ধদেব দাস ওরফে নানুর অন্তিম যাত্রায় সোমবার বারবারই শোনা গেছে, প্রচারের অন্তরালে থেকে গোপনে তার এই দানসত্ত্বা বা সাহায্যের কথা। তার পরিচিত মহলের বক্তব্য-“ডান হাত যা দান করে, বাম হাত যেন তা না জানে।”-জীবদ্দশায় এই প্রবাদ বাক্য অক্ষরে অক্ষরে পালন করে গেছেন বুদ্ধদেববাবু।
রবিবার হায়দরাদের এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর পর সোমবার বিমানে তার মৃতদেহ নিয়ে আসা হয়। সঙ্গে আসেন পত্নী মধুমিতা দাস, ছেলে বীতশোক দাস, মেয়ে নবরূপা দাস ও জামাতা অর্জুন খোল্লার। বাড়িতে মৃতদেহ পৌঁছার আগে থেকেই ভিড় জমান অনেকেই। শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গের সম্পাদক তৈমুর রাজা চৌধুরী সহ বিভিন্ন সংস্থা সংগঠনের কর্মকর্তারা। শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও ধর্মীয় প্রক্রিয়া সেরে মিছিল করে মৃতদেহ নিয়ে যাত্রা শুরু হয় শ্মশানঘাট এর উদ্দেশ্যে। পথে আর্যপট্টি দূর্গাবাড়ী, ইটখোলা মাতৃপূজক গোষ্ঠীর মন্দির, ড্রাগস কর্নার , শ্যামসুন্দর মন্দির, জেলা কংগ্রেস কার্যালয় সহ অন্যান্য স্থানে অনেকে মৃতদেহে শেষ শ্রদ্ধা অর্পণ করেন।
শ্যামসুন্দর মন্দিরে শ্রদ্ধা অর্পণ করেন মন্দির কমিটির কর্মকর্তা সুশীল বণিক, নন্দদুলাল সাহা,ও মাধব সাহারা। সেখানে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে ছিলেন ওষুধ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকর্তা সমরজিৎ দত্ত, শ্যামল সেন সহ অন্যান্যও।
শ্যামসুন্দর মন্দির থেকে মৃতদেহ পার্ক রোডে জেলা কংগ্রেস কার্যালয় ইন্দিরা ভবনে পৌঁছার পর বুদ্ধদেববাবুর রাজনৈতিক সতীর্থরা শ্রদ্ধার ভান্ডার উপড়ে দেন। জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে একে একে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন দলের জেলা সভাপতি সজল আচার্য, বিধায়ক মিসবাহুল ইসলাম লস্কর, প্রাক্তন মন্ত্রী অজিত সিং, দুই প্রাক্তন জেলা সভাপতি অরুন দত্ত মজুমদার ও অভিজিৎ পাল, দলের শ্রীভূমি জেলা কমিটির সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ, বাবুল হোড়, সুজন দত্ত সহ অন্যান্যরা। জেলা কংগ্রেস কার্যালয় থেকে যাত্রা শুরু করে মিছিল এগোতে থাকে শ্মশানঘাটের দিকে। পথে শ্মশান রোডের মোড়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন বেসরকারি চিকিৎসা সেবা সংস্থার পক্ষে রুদ্র নারায়ণ গুপ্ত, নীলাভ মজুমদার সহ অন্যান্যরা।
মৃতদেহ নিয়ে যাত্রা পথে মিছিলে আগাগোড়া ছিলেন বহুলোক। আর শ্মশান ঘাটে পৌঁছার পর যেন উপচে পড়ে ভিড়। শ্মশান ঘাটে শেষ শ্রদ্ধা অর্পণে ছিলেন দুই বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী ও কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থরাও। শ্মশান ঘাটে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে ছেলের হাতে মুখাগ্নির মাধ্যমে বিলীন হয়ে যায় কারো প্রিয় নানু, কারো বা প্রিয় “নানুদা”-র নশ্বর দেহ।




