অনলাইন ডেস্ক : কেউ বলছেন সব ম্যানেজ হয়ে গেছে। ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে শেষ হয়ে গেছে যাবতীয় ক্ষোভ, দুঃখ, ভালোবাসা। বুঝাপড়ার আওতায় পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগও। তাই রোগীর আনাগোনা না থাকলেও খোলা রয়েছে নার্সিং হোম। বিন্দাস মালিকপক্ষও। আর এই যখন আলোচনা-পর্যালোচনা, তখন নার্সিং হোমে প্রসূতি মৃত্যুকান্ডে ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের নির্দেশ দিয়ে দিলেন কাছাড়ের জেলাশাসক। জানা গেছে, কাটিগড়া সেন্ট্রাল হসপিটালে ১১ জুলাই প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত (স্বাস্থ্য)। জেলাশাসক মৃদুল যাদবের নির্দেশে মংগলবার এই অর্ডার জারি করে এডিসি (হেলথ্) আগামী কুড়ি দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে তদন্তকারী অফিসার রবার্ট টোলরকে নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার কাটিগড়ার সার্কল অফিসার তথা প্রসূতি মৃত্যুকান্ডের তদন্তকারী অফিসার ড° রবার্ট টোলর সংবাদমাধ্যমের কাছে এই নির্দেশের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শীঘ্রই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সেন্ট্রাল হসপিটালে প্রসূতি মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করবেন। কী অবস্থায় রোগীর মৃত্যু হলো, কেন হলো, প্রসূতিকে অস্ত্রোপচারের আগে কি অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়েছিল, তাঁর রক্তচাপ কেমন ছিল, হার্টের অবস্থা কি রকম ছিল, এনেস্থিসিয়ার প্রয়োগ কি সঠিক ছিল, এই হাসপাতাল কি আদৌ অস্ত্রোপচার করার মত অবস্থানে আছে, হাসপাতালের কর্মী ক্ষমতা, সরঞ্জাম ক্ষমতা, চিকিৎসকের প্রতুলতা ইত্যাদি ঠিকঠাক আছে কি না, সব বিষয়ই ওই তদন্তে স্থান পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এপ্রসঙ্গে তদন্তকারী অফিসার জানান, নার্সিং হোমে তদন্তকার্যে চিকিৎসা সম্বন্ধীয় এবং অন্যান্য টেকনিক্যাল বিষয়ে সহায়তা করবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এজন্য জয়েন্ট ডিরেক্টরকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি ভুক্তভোগী এবং উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, তদন্তকার্য নিখুঁত এবং নিরপেক্ষ হবে। এদিকে, মামলার রফাদফা হয়ে গেছে বলেও একটা খবর কাটিগড়া, কালাইনের বাতাসে ভাসছে। খবরের সত্যতা কতটুকু তা অবশ্য কোটি টাকার প্রশ্ন। তবে জানা যায়, কালাইন ব্লকের এক সদ্য নির্বাচিত জিপি সভাপতির স্বামীর মধ্যস্ততায় ওই রফাদফার কাজ হয়েছে বা হচ্ছে। লোকটিকে ঘটনার দিনও নার্সিং হোমের মালিকপক্ষের হয়ে ‘পঞ্চায়েতি’ করতে দেখা গেছে। কালাইন বরইতলি প্রথম খন্ডের ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে প্রভাবিত করে ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে মামলা না নড়তেও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে খবর! বলা হচ্ছে, নিহতের পরিবারকে ম্যানেজ করে নিলে বাকি সব আয়ত্তে আনতে সময় লাগবে না। যদিও এ প্রসঙ্গে কোনও পক্ষই মুখ খুলতে রাজি নন। এরকম কাউকে পাওয়াও যাচ্ছে না। পুলিশ তো হাত গুটিয়ে বসে আছে। কেস রেজিস্ট্রার করছে না। আর স্বাস্থ্য বিভাগের বড় কর্তারা তো এই নার্সিং হোমের মালিক!





