অনলাইন ডেস্ক : ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ে রমরমা দাপট। আর সেই পরিচয়েই নাকি চলছে কাঠ পাচারের কারবার। বড়খলার বালাছড়ায় শুক্রবার রাতের ঘটনায় ফের উঠে এল এমনই অভিযোগ। এদিন (শুক্রবার) গভীর রাতে দামছড়া পাথর খাদান থেকে ফেরার সময় পথ আটকে মারধরের শিকার হলেন স্থানীয় যুবক মুমিন হাসান বড়ভুঁইয়া। অভিযোগ, একটি কাঠ বোঝাই বলেরো পিকআপ দ্রুতগতিতে তাঁকে ধাক্কা মারার চেষ্টা করে। কোনওক্রমে রাস্তায় সরে প্রাণ বাঁচান মুমিন। পরে সাহস করে সেই গাড়ির গতিরোধ করতে গিয়ে উলটে নিগৃহীত হতে হয় তাকে। অভিযোগ, পিকআপ থামতেই পেছনের আরেকটি গাড়ি থেকে নেমে আসে তিন-চারজন। তাদের মধ্যেই ছিলেন রামনগরের বাসিন্দা সন্দেহভাজন ‘সাংবাদিক’ দিলোয়ার হোসেন বড়ভুঁইয়া ! যিনি নিজেকে ‘সাংবাদিক’ পরিচয় দিয়ে মুমিনকে বলেন, ‘আমাকে চিনতে পারছিস না? আমার কাঠের গাড়ি কেন থামালি?’ এর পরেই শুরু হয় মারধর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মুমিনের বাবা নাজিম উদ্দিন বড়ভুঁইয়া। পরে বড়খলা থানার পুলিশ এসে মুমিন এবং কাঠ বোঝাই পিকআপটিকে থানায় নিয়ে যায়।শনিবার সংবাদমাধ্যমে নাজিম উদ্দিন বড়ভুঁইয়া জানান, তাঁর ছেলেকে বিনা কারণে মারধর করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত দিলোয়ার ও তাঁর স্ত্রী বহুদিন ধরেই রিপোর্টার পরিচয় দিয়ে কাঠ পাচার করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁর ছেলেকে আটক করলেও দিলোয়ার ও তার স্ত্রীকে ছেড়ে দেয়। ইতোমধ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। এদিকে বড়খলা থানার ওসি নীলকমল বরুয়া জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষ। মুমিন হাসানের পাশাপাশি দিলোয়ার হোসেন বড়ভুঁইয়াও থানায় পাল্টা অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং কাঠ বোঝাই গাড়িটি বন বিভাগের হেফাজতে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে বেআইনি কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সত্যিই যদি সংবাদমাধ্যমের আড়ালে কাঠ পাচার চলে থাকে, তবে তা বন্ধ হওয়া জরুরি—মন্তব্য স্থানীয় সচেতন মহলের।





