অনলাইন ডেস্ক : কারো কাঁপছিল হাত- পা, কেউ বা বমি করছিল ঘন ঘন। রাতভর অভিযান চালিয়ে চুরির অভিযোগে ৩৮ জনকে ধরার পর এদের বেশ কয়েকজনের এমন শারীরিক সমস্যায় বেশ বিপাকে পড়তে হয় পুলিশকে। চাহিদা মত নেশা করতে না পারায় নেশার দাস এই চোরদের শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় তড়িঘড়ি করে পুলিশকে এদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়।
গত কিছুদিন ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চুরি হচ্ছিল ঘন ঘন, এমনকি ছাড় পায়নি বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের আবাসনও। চোরদের এই দৌরাত্ব্যে স্বাভাবিকভাবেই চাপ বাড়ছিল পুলিশের উপর। তাই সোমবার রাতভর গোটা জেলা জুড়ে বিশেষ অভিযানে নেমে পুলিশ গ্রেফতার করেছে মোট ৩৮ জন চোরকে । এই ৩৮ জনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি করা যেসব সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে, স্কুটি ,স্বর্ণালংকার, টিভি থেকে ধরে মোবাইল, মোটর পাম্প, হাতঘড়ি, বৈদ্যুতিক কেটলি,তামার পাইপ,অ্যালুমিনিয়ামের তার এমনকি চাউলের বস্তা সহ আরও বহুবিধ সামগ্রী। অর্থাৎ চুরির ক্ষেত্রে নিদৃষ্ট কোনও গন্ডি নেই।হাতের কাছে যা পাওয়া যায় তা-ই হাতিয়ে নিয়ে যায় এরা। আর ধৃতদের মধ্যে এক বড় অংশেরই চৌর্যবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ার মূল কারণ নেশা।
যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এদের মধ্যে বরাক উপত্যকার অন্য জেলা শ্রীভূমির কয়েকজনের পাশাপাশি রয়েছে বিহার রাজ্যের দানাপুর জেলার হাওয়ালপুরের অজয় চৌধুরী নামে একজনও । কাছাড়ের যারা গ্রেফতার হয়েছে এরা হলো- রতন লস্কর (শিলচর পানিট্যাংকি), মতিবুর রহমান লস্কর (শিলচর কনকপুর), কুটি রাজা লস্কর (জিরিঘাট লালপানি), কিষান দাস (কাটিগড়া চৌরঙ্গী), রুপেশ দাস (শিলচর তপবননগর), রাজু দাস(শিলচর বিবেকানন্দ রোড), শরিফ লস্কর ( শিলচর ওল্ড লক্ষীপুর রোড), মাসুম উদ্দিন লস্কর (শিলচর দুধপাতিল চতুর্থ খন্ড), শাহরুখ আহমদ বড় ভূঁইয়া (শিলচর ইটখোলা), দীপ মজুমদার (শিলচর ঘনিয়ালা), বিশ্বনাথ নূনিয়া (শিলচর ফকির টিলা), মুমিন লস্কর (শিলচর আতাল বস্তি), আবিদুর রহমান লস্কর (শিলচর ঘনিয়ালা), ইরফান খান, পিনাক রায় ও এনামুল লস্কর (শিলচর ওয়াটার ওয়ার্কস রোড), নিরঞ্জন দাস (শিলচর শরৎপল্লী), রবি দাস (শিলচর আউলিয়া বাজার), নজমুল হক মজুমদার ( সোনাবাড়িঘাট প্রথম খন্ড), আহাদ হোসেন লস্কর(শিলচর দক্ষিণ কৃষ্ণপুর), সুজিত দাস( শ্রীকোনা টিভি টাওয়ার রোড), রাবিদ হোসেন ওরফে কালা (শ্রীকোনা প্রথম খন্ড), সালে আহমদ বড়ভূইয়া ( শালচাপড়া গ্রান্ট), মজাকির হোসেন আহমেদ ওরফে রাজু ও আসাদুল আলম ওরফে বিলকা ( শ্রীকোনা দ্বিতীয় খন্ড), বিশ্বজিৎ দাস(শ্রীকোনা টিভি টাওয়ার রোড), সঞ্জয় অধিকারী (শিলচর তারাপুর মালিনী বিল), বাবুল দাস (শিলচর মাছুঘাট), নুর আহমদ লস্কর(শিলচর চিরুকান্দি), বিশাল সিনহা (শিলচর পূর্ব সিঙ্গারি), উজ্জ্বল বিশ্বাস( শিলচর ইটখোলা), সোমকর রবিদাস (শিলচর অন্নপূর্ণা ঘাট), মমিত মালাকার (কাটিগড়া জালালপুর), খোকন উদ্দিন মাজারভূঁইয়া ( শিলচর চিরুকান্দি)। গ্রেফতার হওয়া অন্যান্যরা হলো শ্রীভূমি জেলার ওয়াহিদ আলী(পাথারকান্দি), দুলাল দাস (শ্রীভূমি জয় রাম কলোনি) ও ফয়জুর রহমান (শ্রীভূমি টিলা বাজার)।
এই ৩৮ জনকে গ্রেফতার করাটা একই দিনে চোর ধরার ক্ষেত্রে কাছাড় পুলিশের সর্বকালীন রেকর্ড। এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি একই দিনে শিলচরে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল ২১ জন চোরকে। সোমবার রাতে ৩৮ জনকে গ্রেফতার করার পর মঙ্গলবার পুলিশ এদের আদালতে পেশ করে। আদালতের নির্দেশে তাদের প্রেরণ করা হয়েছে জেল হাজতে।
৩৮ জনকে গ্রেফতারের পর আদালতে পেশ করার আগে দেখা যায়, এদের বেশ কয়েকজন নেশা সামগ্রী না পেয়ে অস্বস্তিকর আচরণ করছে। কয়েকজনের সারা শরীর কাঁপতে শুরু করা সহ, অন্য কয়েকজন বমি করতে শুরু করে। এই অবস্থায় পুলিশ তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে এদের চিকিৎসা করাতে বাধ্য হয়। চিকিৎসার পর স্বাভাবিক হলে অন্যান্যদের সঙ্গে এই নেশাশক্তদেরও প্রেরণ করা হয় আদালতে।পুলিশের এক সূত্র জানান, ধৃতদের বেশ কয়েকজনের রেকর্ড ঘেটে দেখা গেছে, নেশার দাস হয়ে পড়ার পর ব্যয় মেটাতে এরা চুরিতে হাত পাকিয়ে ধীরে ধীরে দাগি চোর হয়ে ওঠে। সিনিয়র পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট নূমল মাহাতোও জানিয়েছেন, ধৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ড্রাগসের নেশায় আসক্ত। তাই চোর ধরার পাশাপাশি পুলিশ জেলায় ড্রাগসের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন ধরে অভিযান চালিয়ে আসছে ।সিনিয়র পুলিশ সুপার বলেন,সাধারণ লোকেদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় পুলিশ যেমন দায়বদ্ধ ঠিক তেমনি নেশার কবলে পড়ে যুবকরা যাতে বেপথে পা না বাড়ায় সেদিকেও রাখা হচ্ছে নজর।





