শুক্রবার রাতে ধলাই থানা এলাকার কাবুগঞ্জের কাছে পাকইপার নামক স্থানে ৩০৬ নাম্বার শিলচর আইজল জাতীয় সড়কের অদূরে এস কিউব বারের সামনে ছুরিকাঘাতে ২৭ বছর বয়সী যুবক রাকিব হোসেন লস্কর নিহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে বারের ভেতরে বচসার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেলেও, বিশেষ সূত্রে খবর, এর পেছনে রয়েছে অবৈধ মাদক কারবারের যোগসূত্র।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ। সূত্রে জানা গেছে, ২৭ বছর বয়সী গাড়ি চালক রাকিব হোসেন লস্কর পাকইপারের এস কিউব বারে মদ পান করতে যান। বারের ভেতরে বসে থাকা একদল যুবকের সঙ্গে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তার বচসা শুরু হয়। রাকিব তার গাড়ি মালিক নাজু লস্করকে বিষয়টি জানান। নাজু ঘটনাস্থলে এসে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করলে তার সঙ্গেও বচসা বাধে। এক পর্যায়ে নাজু, মঙ্গল নামে যুবককে চড় মারলে মঙ্গল ও তার সঙ্গীরা সেখান থেকে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর মঙ্গল তার কয়েকজন সঙ্গীসহ একটি বোলেরো গাড়িতে করে বারের সামনে ফিরে আসে। গাড়ি থেকে নেমে মঙ্গল সোজা বারের দিকে যায়। সে সময় রাকিব বারের পাশেই একটি পান দোকানে কিছু কিনছিলেন। অভিযোগ, মঙ্গল সরাসরি রাকিবের গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাকিব। নাজু লস্কর এবং বারে থাকা অন্যান্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শিলচর মেডিকেল কলেজের উদ্দেশ্যে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ধলাই থানার অফিসার ইনচার্জ কুলেন্দ্র হাজুরী দ্রুত তদন্তে নামেন। তিনি রাত এগারোটার দিকে ভাগাবাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত মঙ্গলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
পুলিশকে নাজু লস্করের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বারের মধ্যে বচসার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আড়ালে অবৈধ মাদকের চোরাচালান সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। সুমিত নামের মতিনগরের এক যুবক রাকিবকে সঙ্গে নিয়ে মাদকদ্রব্য কেনাবেচার চুক্তি চূড়ান্ত করতে পাকইপারের এস কিউব বারে বসেছিল। মাদক কেনাবেচার কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে মঙ্গল পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে মঙ্গল পেছন দিক থেকে রাকিবের গলায় ছুরি বসিয়ে দেয়।
অভিযুক্ত মঙ্গল ভাগাবাজারের বন গ্রামের বাসিন্দা এবং কুখ্যাত ড্রাগ মাফিয়া আবিদুর রহমান ও বিলকিস বেগমের পুত্র। ভাগাবাজার হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম পেট্রোল পাম্পের কাছে মঙ্গলের একটি কার ওয়াশ অ্যান্ড ডেকোরেশনের দোকানও রয়েছে।পুলিশ মঙ্গলকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ তদন্তে বেরিয়ে আসবে ঘটনার আসল রহস্য।





