অনলাইন ডেস্ক : নৃশংসভাবে খুন করা হলো এক বছরের শিশুপুত্রকে। ঘটনা উধারবন্দ থানা এলাকার দয়াপুর চা বাগানের আতইছড়া বস্তির। পুলিশ এই ঘটনায় পাশের বাড়ির বাসিন্দা শিশুটির সম্পর্কিত কাকা গান্ধী রিকিয়াসনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় বিরাজ করছে তীব্র উত্তেজনা।
খুন করা হয়েছে, এক বছরের শিশুপুত্র অভিজিৎ রিকিয়াসনকে। অভিজিতের বাবার নাম শঙ্কর রিকিয়াসন। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, পাশের বাড়ির বাসিন্দা ঘাতক গান্ধী শংকরের মাসতুতো ভাই। অন্যান্য দিনের মতো এদিন সকালেও শংকর এবং তার পত্নী কাজে চলে যান।অভিজিৎ ছিল শঙ্করের বৌদি সন্ধ্যামনির কাছে। দুপুর ১২ টা নাগাদ অভিজিৎ বাড়ির দাওয়ায় সন্ধ্যামনির সন্তানদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল।হঠাৎ করে গান্ধী বাড়িতে ঢুকে অভিজিৎকে উঠিয়ে নিয়ে শঙ্করের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। হঠাৎ করে গান্ধীর এমন কাজে সন্ধামনি
কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়েপড়েন ।তিনি দরজা খোলার জন্য গান্ধীকে ডাকাডাকি করতে থাকেন। কিন্তু গান্ধী দরজা না খুলে হুমকি দেয় দরজা খোলার চেষ্টা করা হলে সে অভিজিৎকে মেরে ফেলবে। তখন সন্ধ্যামনি আশপাশের লোকেদের ব্যাপারটা জানান। আশপাশের লোকেরাও দরজা খোলার জন্য অনুরোধ করলে গান্ধী এতে কান দেয় নি । এভাবে প্রায় আধঘণ্টা পার হওয়ার পর গান্ধী দরজা খুলে দেয়। দেখা যায় তার কাপড়ে লেগে রয়েছে রক্তের দাগ এবং হাতে ধরা একটি ধান কাটার কাঁচি। রক্তের দাগ লেগেছিল কাচিতেও। এসব দেখে বাড়িতে জড়ো হওয়া লোকেদের বুঝতে বাকি থাকে নি যে, গান্ধী বড় ধরনের কোনও ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে। তবে তার উন্মত্ত রূপ দেখে কেউই ঘরের দিকে এগুতে সাহস পাচ্ছিলেন না। সে ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় চলে গেলে কয়েকজন ভেতরে গিয়ে দেখেন ভেতরে পড়ে রয়েছে অভিজিতের গলাকাটা মৃতদেহ। এসবের মাঝে ঘাতক গান্ধী হাতে রক্ত মাখা কাচি নিয়ে সামনেই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। কয়েকজন তাকে ধরতে গেলে সে কাচি নিয়ে তেড়ে যায়। এই অবস্থায় খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। খবর পেয়ে উধারবন্দ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনেক কসরতের পর গান্ধীর হাত থেকে কাচি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে পাকড়াও করে নিয়ে যায়।
গান্ধী কেন এভাবে শিশু অভিজিৎকে হত্যা করল,এর কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির দরুন তাকে উধারবন্দ থানায় রাখা হয়নি।সরিয়ে শিলচরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।এছাড়া দয়াপুরে ঘটনাস্থলে চলছে পুলিশের টহলদারি।





